কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুনে নিহত মণিরামপুরের চারজনের পাশাপাশি দাফন

এফএনএস (জি. এম ফারুক আলম; মণিরামপুর, যশোর) : | প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুনে নিহত মণিরামপুরের চারজনের পাশাপাশি দাফন

কক্সবাজারের পাটোয়ার টেক ‘টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টের’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো মণিরামপুরের এক পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ দীর্ঘ ১১ দিন পর নিজ গ্রামে পৌঁছেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক ও শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এর আগে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তকরণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার কক্সবাজার হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বুধবার দুপুর তিনটায় স্থানীয় বাঁধাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারজনকে দাফন করা হইি

নিহতরা হলেন-ঢাকার গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই শিশু কন্যা রুজাইনা ইনায়া ও সুনাইনা ইহানা।

পরিবারের একমাত্র অবলম্বনকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন নিহত তুহিনের বাবা মতিয়ার রহমান। শোকে পাথার হয়ে যাওয়া এই পিতা বলেন, কয়েক দিন আগে আনন্দের সাথে কথা হলো, আর আজ আমার সব শেষ ! বুকজুড়ে শুধু শূন্যতা, কাকে নিয়ে বাঁচব আমি ? বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স বিলাপ করতে করতে বলেন, জীবনের তাগিদে দূরে চাকরি করতাম। ভাই ও তার পরিবারকে এভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে হবে এমন মৃত্যু যেন কারও কপালে না জোটে। আমাদের পুরো পরিবারটা চিরকালের জন্য তছরুপ হয়ে গেল।

চাচাতো ভাই খালিদ হোসেন ও রিয়াজ উদ্দিন অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, গত ১৭ অক্টোবর রাতেও বাবার সাথে ফোনে কথা বলে সমুদ্র সৈকতে কাটানো আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাগ করে নিয়েছিল নাহিদ। কিন্তু সেই আনন্দ ভ্রমণ যে তাদের জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। প্রতিবেশী গোলাম মোস্তফা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এমন মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি। চোখের সামনে একটি হাসিখুসি পরিবারের সবাই চিরতরে হারিয়ে গেল, এলাকাবাসী হিসেবে এই শোক সইবার নয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে যান নাহিদুর রহমান। ১৮ অক্টোবর ভোরে ইনানীর পাটোয়ার টেক ওই রিসোর্টে লাগা আকস্মিক আগুনে পুড়ে অঙ্গার হন তারা। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ইতোমধ্যে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুর তিনটায় স্থানীয় বাঁধাঘাটা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারজনকে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে