নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ইলিশ শিকার

প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ হোক

এফএনএস | প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ হোক

ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ, নদীনির্ভর অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক। সেই সম্পদের টেকসই সুরক্ষার স্বার্থে প্রতিবছরের মতো এবারও প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা আবারও প্রশ্নের মুখে। আইন থাকছে, নির্দেশনা থাকছে, অভিযানও চলছে; অথচ নদীতে ইলিশ শিকার থেমে নেই। বরং অনেক এলাকায় প্রকাশ্যেই চলছে মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি। এতে শুধু আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে না, রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণক্ষমতাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহল নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জেলেদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করছে। এর ফলে নিষেধাজ্ঞার সময়ও অব্যাহত রয়েছে ইলিশ আহরণ, আর সেই মাছ প্রকাশ্যে নিলাম ও বাজারজাত করা হচ্ছে। যদি এমন পরিস্থিতি বাস্তবে ঘটে থাকে, তাহলে তা কেবল আইন অমান্যের ঘটনা নয়; বরং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তকে কার্যত অকার্যকর করে দেওয়ার শামিল। প্রশ্ন হলো, বছরের পর বছর একই ধরনের অভিযোগ ওঠার পরও কেন পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটছে না? ইলিশ সংরক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে মৎস্য বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কোস্ট গার্ড এবং স্থানীয় প্রশাসন। তারা নিয়মিত অভিযানও পরিচালনা করছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই যদি কোটি কোটি টাকার মাছ ধরা ও বিক্রি সম্ভব হয়, তাহলে তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্বলতা, জনবল সংকট কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপ, যা-ই থাকুক না কেন, তার দায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। আরও উদ্বেগের বিষয়, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় হামলার শিকার হচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা। এটি স্পষ্ট করে যে, অবৈধ মাছ শিকার এখন শুধু জীবিকার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শক্তিশালী স্বার্থগোষ্ঠী ও অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক। ফলে সাধারণ অভিযান দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নাও হতে পারে। প্রয়োজন গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েন এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা। ইলিশের প্রজননকালীন এই নিষেধাজ্ঞা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইলিশের অস্তিত্ব রক্ষার একটি অপরিহার্য উদ্যোগ। স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য যদি প্রজনন মৌসুমে নির্বিচারে মাছ ধরা চলতে থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জেলে সমাজই, ক্ষতিগ্রস্ত হবে জাতীয় অর্থনীতি। তাই শুধু জেলে নয়, অবৈধ এই কর্মকাণ্ড থেকে যারা আর্থিক বা সামাজিক সুবিধা নিচ্ছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে