গৌরব ও ঐতিহ্যের ছয় দশক পূর্তি উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) হীরক জয়ন্তী উদযাপন ঘিরে দেশ-বিদেশের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের স্মৃতি, বন্ধুত্ব ও বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের আনন্দঘন মুহূর্তগুলো নতুন করে উদযাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন সাবেক চবিয়ানরা। এ উপলক্ষে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হচ্ছে বর্ণাঢ্য মহামিলনমেলা। হীরক জয়ন্তীর এ আয়োজন সফল ও স্মরণীয় করে তুলতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী লায়ন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ। একই সঙ্গে শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি এড়াতে আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হীরক জয়ন্তী উদযাপনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ও দেশ-বিদেশের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, আয়োজক কমিটির প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আসলাম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শেকড়, আবেগ ও অহংকারের জায়গা। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ বছর পূর্তির আয়োজন সফল করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। হীরক জয়ন্তীকে বর্ণাঢ্য ও স্মরণীয় করে তুলতে তিনি প্রয়োজনীয় আর্থিক ও সাংগঠনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মাধ্যমে আয়োজনটিকে সার্থক করে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক প্রাক্তন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তাঁদের নিবন্ধন, আপ্যায়ন, নিরাপত্তা, আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আগাম তথ্য সংগ্রহ জরুরি। এ কারণে নির্ধারিত শেষ সময় ১২ নভেম্বরের অপেক্ষা না করে ১০ নভেম্বরের মধ্যেই নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।
বক্তারা বলেন, ছয় দশকের পথচলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশা ও প্রতিষ্ঠানে নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। হীরক জয়ন্তীর মহামিলনমেলা সেই গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রবীণ ও নবীন চবিয়ানদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন শুধু স্মৃতিচারণ ও আনন্দ-উৎসবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও কার্যকর যোগাযোগের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে। এ লক্ষ্যে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সব প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে নিবন্ধন সম্পন্ন করে হীরক জয়ন্তীর উৎসবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।