সরকারি উন্নয়ন কাজের দরপত্রে নির্ধারিত মালামালের মূল্য বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবিতে একমত হওয়ায় পটুয়াখালীতে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে পটুয়াখালী জেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির। বুধবার বিকেলে পটুয়াখালী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে ঠিকাদারদের নানা সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন সর্বস্তরের ঠিকাদাররা।
‘করবো কাজ, গড়বো দেশÑসবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে তালিকাভুক্ত ঠিকাদারদের পক্ষে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে ঠিকাদারদের মুখপাত্র হিসেবে অভিযোগ উপস্থাপন করেন মেসার্স আরিক কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মশিউর রহমান মিলন। ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে অভিযোগে বলা হয়, তাঁরা পটুয়াখালী জেলার স্থায়ী বাসিন্দা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ম অনুযায়ী তালিকাভুক্ত হয়ে বাৎসরিক ফি পরিশোধের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছেন। বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে তাঁরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমানে ফ্যাসিষ্টরা পালিয়ে গেলেও সরকারি কাজের দরপত্রে মালামালের যে মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম। ফলে নির্ধারিত দরে কাজ সম্পন্ন করতে গেলে ঠিকাদারদের নিজস্ব অর্থ থেকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ ঠিকাদাররা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং ঠিকাদারি ব্যাবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাঁরা আরও বলেন, ঠিকাদারি ব্যবসাই তাঁদের একমাত্র আয়ের উৎস। এই ব্যবসার ওপর নির্ভর করেই স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ করতে হয়। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কাজের নতুন দর নির্ধারণ করা না হলে সাধারণ ঠিকাদাররা আরও আর্থিক সংকটে পড়বেন। এতে তাঁদের ব্যাবসা পরিচালনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হবে। এ সময় ঠিকাদাররা তাঁদের ন্যায্য দাবি আদায় এবং পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ‘পটুয়াখালী জেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি’ নামে একটি অরাজনৈতিক ব্যবসায়ী সংগঠন গঠনের উদ্যোগের কথা জানান।
ঠিকাদাররা বলেন, গৎ ১৭ অক্টোবর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোঃ জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর আওতায় বিধিমালা প্রণয়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এবং নতুন রেট সিডিউল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় জরুরি বিষয় ব্যতীত সকল কার্য, সেবা ও পণ্য সরবরাহ সংক্রান্ত দরপত্র বা ক্রয় প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ নির্দেশ উপেক্ষা করে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ১৪ টি ম্যানটেইনেন্স কাজের দরপত্র আহ্বান করেন। সংশোধন পূর্বক এ দরপত্র পুনঃআহবান না করা হলে। সমমনা কোন ঠিকাদার এ দরপত্রে অংশগ্রহণ করবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা। বর্তমান বাজারদরের ভিত্তিতে সরকারি উন্নয়নকাজের দর পুনর্র্নিধারণ এবং সাধারণ ঠিকাদারদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা। এ সময় ঠিকাদার শিপলু খান, মোহন, বাবু, আল-আমিন সহ অন্যান্য ঠিকাদারগণ উপস্থিত ছিলেন।