লাখো যাত্রীর চাপ সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ, ঈদযাত্রায় রেলের হাল দেখতে কমলাপুরে মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ২৪ মে, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম | প্রকাশ: ২৪ মে, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
লাখো যাত্রীর চাপ সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ, ঈদযাত্রায় রেলের হাল দেখতে কমলাপুরে মন্ত্রী

ঈদুল আজহার ঘরমুখো যাত্রার মৌসুমে ট্রেনের চাহিদা আর সক্ষমতার ব্যবধানটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রোববার (২৪ মে) কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, আন্তনগর ট্রেনে প্রতিদিন ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহনের সুযোগ থাকলেও ঈদের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্রেনে যেতে চান। এই বিশাল চাহিদার বিপরীতে ট্রেনের সংখ্যা যথেষ্ট নয় বলে সরাসরি স্বীকার করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, ঈদ উপলক্ষে ক্যাপাসিটির বাইরেও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত টিকিট ছেড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন রুটে নতুন করে ৫১টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সোমবার (২৫ মে) থেকে পাঁচ জোড়া অর্থাৎ মোট ১০টি বিশেষ ট্রেন চালু করা হবে।

রোববার সকালে তিনটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে চলেছে বলে জানান মন্ত্রী। বুড়িমারী এক্সপ্রেস ঢাকায় আসার পথে রেললাইনে ছড়িয়ে রাখা ধানের খড়ে চাকা পিছলে বিকল হয়ে পড়ে। পরে রিলিফ ট্রেন পাঠিয়ে সেটি সচল করে আনা হয়। এর জেরে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসও দেরিতে ছাড়ে। সব মিলিয়ে একটি ট্রেন ২০ মিনিট, একটি এক ঘণ্টা এবং আরেকটি প্রায় দুই ঘণ্টা দেরি করে।

রেলমন্ত্রী বলেন, "ট্রেন লাইনের ওপর খড় সরাতে গেলে জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের কর্মীদের মারধর করে। এরকম একটা পরিস্থিতি তো আছেই।" তিনি জানান, কিছু স্টেশনে প্রবেশাধিকার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা এখনো সম্ভব হয়নি। তবে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই বলে তিনি আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনে গিয়ে দুটি ট্রেনে উঠে যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন মন্ত্রী। যাত্রীরা সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে তিনি জানান। টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে অনলাইন ব্যবস্থায় প্রথমে আবেদনকারীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্টেশনে থাকা যাত্রীরাও জানাচ্ছেন মিশ্র অভিজ্ঞতার কথা। চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রী সেলিম রেজা বলেন, সকাল ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা পর টিকিট পেয়েছেন। দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে রাজশাহীমুখী আরেক যাত্রী কামাল উদ্দিন বলেন, "আগের মতো ভিড় নেই। অনেকটা স্বস্তির মনে হচ্ছে।"

দুর্ঘটনার ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন চিহ্নিত করে ঈদের আগেই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "আমরা সতর্ক আছি। বড় কোনো বিপর্যয় হবে না, এতটুকু নিশ্চিত করতে পেরেছি।" বর্তমানে ৮২ থেকে ৮৩টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সচল রয়েছে, শিগগিরই আরও এক-দুটি যুক্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

পরিদর্শনকালে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে