অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

এফএনএস এক্সক্লুসিভ | প্রকাশ: ২৪ মে, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে এবার বন্যার শঙ্কা বাড়ছে। ইতিমধ্যে অতিভারি বৃষ্টির ফলে প্রাক-মৌসুমের শুরুতেই হাওরের সাত জেলাসহ চট্টগ্রাম ও রংপুর জেলায় আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। ওসব এলাকায় জলাবদ্ধতার ফলে জনভোগান্তি ও হাওরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চলতি মে মাসের মাঝামাঝিতে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে বাংলাদেশ আবারো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আর কয়েকদিন ভারি বর্ষণ থাকলে দেখা দিতে পারে বন্যা। ইতিমধ্যে এপ্রিলে সারা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আট বিভাগের মধ্যে বরিশালে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৬৯ দশমিক ৫ শতাংশেরও বেশি। আর সিলেট বিভাগে একদিনে রেকর্ড ৬০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিভাগটির স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ২৯৫ মিলিমিটার। কৃষি বিভাগ এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, হাওর অঞ্চলে গত দুই সপ্তাহের ভারি বৃষ্টিতে তীব্র বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হাওরের সাত জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্যার ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অথচ হাওরের প্রধান ফসল বোরো ধান। বৈশাখ মাসেই হাওরে বোরো ধান কাটা হয়। কিন্তু ভারি বর্ষণের কারণে এবার কৃষকরা ধান কাটতে পারেনি। ভেসে গেছে কৃষকের বোরো ধান। ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় পানিতে তলিয়ে গেছে হাওরের হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান।

সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী তিন মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। মে মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তাছাড়া চলতি মাসে এক-দুটি লঘুচাপ এবং সেখান থেকে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ও হতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা কম। এছাড়া এ মাসে পাঁচ-ছয়টি কালবৈশাখী হতে পারে। তার মধ্যে দুই-তিনদিন তীব্র ঝড় হতে পারে। একই সঙ্গে এক থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হতে পারে। তার মধ্যে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। মে মাসে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম থাকলেও জুন-জুলাইয়ে বাড়তে পারে বৃষ্টির পরিমাণ। সিলেট বিভাগে মে মাসে সর্বোচ্চ ৫২০ থেকে ৫৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।

সূত্র আরো জানায়, দ্রুতই সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি সমতলে কোথাও কোথাও প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওরে সৃষ্টি হতে পারে বন্যা। তাছাড়া নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের ধনু-বাউলাই নদী, হবিগঞ্জের কালনি ও সুতাং, মৌলভীবাজারের জুড়ী ও মনু নদীর পানিও বাড়তে পারে। ফলে ওসব এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হবে।

এদিকে এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ জানান, চলতি মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে তা লম্বা সময় ধরে হবে না। জুলাইয়ের দিকে গিয়ে বৃষ্টি বাড়বে।

অন্যদিকে এ বিষয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর রহমান জানান, এবার প্রাক-মৌসুমে বন্যার কারণে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এ সময়ে আকস্মিক বন্যা হওয়ায় ক্ষতি বেশি হয়েছে। তবে আগামী ১৫ মে থেকে বর্ষার মৌসুম শুরু হলে বৃষ্টির পরিমাণও বেশি হবে। ফলে বন্যার শঙ্কা থাকছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে