পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটায় সেনাসদস্য বহনকারী একটি ট্রেনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক মানুষ। বিস্ফোরণের পর ট্রেনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে যায়, আগুন ধরে যায় আশপাশের যানবাহনেও। বিবিসি, আল জাজিরা ও ডন জানিয়েছে, রোববার (২৪ মে) সকালে চামান ফাটক স্টেশনের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
বিবিসি জানায়, ট্রেনটি কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে প্রধান রেলস্টেশনের দিকে যাচ্ছিল। সেখান থেকে সামরিক সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা পেশোয়ার হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ঈদ উদযাপনে যাওয়ার কথা ছিল। বিস্ফোরণে তিনটি কোচ ও ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয় এবং দুটি কোচ উল্টে পড়ে। আশপাশের বাড়িঘর ও গাড়িতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং এটি আত্মঘাতী বোমা হামলা বলে দাবি করেছে বলে বিবিসি জানায়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এখনো তা নিশ্চিত করেনি। আল জাজিরা জানাচ্ছে, হামলাটি ছিল একটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা। ঘটনাস্থলের কাছে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা নাসির আহমেদ বিবিসিকে বলেন, "ট্রেন চলছিল, যাত্রীরা ছিলেন, তখনই বিস্ফোরণ হয়।" তিনি জানান, রোববার সকাল হওয়ায় পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন, বিস্ফোরণের ধাক্কায় বাড়ির সব জানালার কাচ ভেঙে পড়ে।
ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ফ্রন্টিয়ার কর্পসের তিন সদস্যও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও আছেন। কোয়েটার হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে কর্তব্যরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিবিসির বরাতে জানা যায়, তিনি বলেন, "এ ধরনের কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ পাকিস্তানের জনগণের সংকল্পকে দুর্বল করতে পারবে না। বেলুচিস্তানের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আছে পুরো জাতি।" বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সারফরাজ বুগতি জানিয়েছেন, তিনি নিজে পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জড়িতরা আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।
আল জাজিরা জানায়, বিএলএ সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তানে চীনা শ্রমিকদেরও লক্ষ্যবস্তু করেছে। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের আওতায় চীনের শিনজিয়াং থেকে পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দর পর্যন্ত অবকাঠামো নির্মাণে বেইজিংয়ের সম্পৃক্ততার বিরোধিতা থেকেই এ হামলা হচ্ছে বলে জানায় সংবাদমাধ্যমটি। বিএলএর অভিযোগ, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার বেলুচিস্তানের খনিজসম্পদ কাজে লাগাচ্ছে, কিন্তু স্থানীয় জনগণ এর কোনো সুবিধা পাচ্ছে না।
বিবিসি জানাচ্ছে, এটিই প্রথম নয়। গত দুই বছরে জাফর এক্সপ্রেস একাধিকবার বিএলএর হামলার শিকার হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি একটি ট্রেন ছিনতাই করে বহু যাত্রীকে জিম্মি করেছিল।