জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরধরে বরিশালের এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি, জোরপূর্বক জমি দখলচেষ্টা, মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী রেজাউল হক বাবলু।
রবিবার দুপুরে ভুক্তভোগী মো. রেজাউল হক বাবলু বলেন, তিনি ঢাকাতে কর্মরত একজন চাকরিজীবী এবং বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানাধীন কাউনিয়া চানমারী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। লিখিত আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, কাউনিয়া এলাকায় তার (রেজাউল হক বাবলু) মালিকানাধীন ও ভোগদখলীয় প্রায় ছয় শতক জমি জবরদখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন থেকে অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ও তার সহযোগিরা নানা ষড়যন্ত্র ও হয়রানি করে আসছেন। এমনকি ভুক্তভোগীর জমিতে কোনো রাস্তার অস্তিত্ব না থাকলেও বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক যাতায়াতের চেষ্টা করেন। এতে বাঁধা দিলে ভুক্তভোগীর পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ছড়িয়ে দেয়া হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এ বিষয়ে ২০২৪ সালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা (নং- ৯৯০/২৪) দায়ের করা হলে আদালত উভয়পক্ষকে সমঝোতা ও ল্যান্ড সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি পরিমাপের নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জাকির হোসেন ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা ও দখলের চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাবলু বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় মারধরের ঘটনায় একটি মামলা (নং- ১৬/২০২৫) দায়ের করেন। এর জেরধরে ভুক্তভোগীকে চাঁপে রাখতে জাকির হোসেন প্রভাব খাটিয়ে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা (নং- ৩৭১/২০২৫) দায়ের করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্রে আরও জানা গেছে, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সালিশ বৈঠকে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও গভীর রাতে জাকির হোসেন তার লোকজন নিয়ে সেই সীমানা পিলার ভেঙে ফেলেন। সর্বশেষ চলতি মাসের ৯ মে দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী বাবলু ঢাকায় অবস্থানকালীন সময়ে অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, তার স্ত্রী, সন্তানসহ স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও বহিরাগতদের নিয়ে ওই জমিতে দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করা হয়। এতে বাবলুর সন্তান বাঁধা প্রদান করলে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৪০৫) করা হয়েছে। পরবর্তীতে কাউনিয়া থানার ওসি উভয়পক্ষকে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দিয়ে জমিতে সবধরনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করলেও সেই নির্দেশ অমান্য করে জাকির হোসেন পুনরায় রাতের আঁধারে অবৈধ বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেন। লিখিত আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও জমি দখল, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, অর্থ আত্মসাত ও সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী বাবলু ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। যেকারণে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত আইনজীবী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে জেলা আইনজীবী সমিতির বিধি অনুযায়ী কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভুক্তভোগীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারধরের হুমকি প্রদান করেন।