ভৈরবে জেলের চালের ড্রামে লুকানো ২২ লক্ষ টাকা আগুনে পুরলো

এফএনএস (আদিল উদ্দিন আহমেদ; ভৈরব, কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
ভৈরবে জেলের চালের ড্রামে লুকানো ২২ লক্ষ টাকা আগুনে পুরলো

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের আগানগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে জেলে মোক্তার উদ্দিনের বসত ঘরে আগুন লেগে চালের ড্রামে লুকানো ২২ লক্ষ টাকা পুরে গেছে। জেলের নাম মোক্তার উদ্দিন (৫০)। সে ছোট বেলা থেকে বাড়ীর পাশে মেঘনা নদী থেকে মৎস সংগ্রহ করে জীবীকা নির্বাহ করে।

জানা যায়, মোক্তার উদ্দিনের দুই ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে খাইরুলকে ৮ বছর আগে সৌদি আরবে পাটান। আর ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম (২২)কে মালেশিয়া পাটানোর জন্য পাঁচ ছয় বছর যাবৎ টাকা জমাচ্ছিলেন। প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন হাজার টাকার মাছ ধরে তিনি জীবীকা নির্বাহ করতেন। 

সাইফুলের জন্য আগামী মাসে মালেশিয়ার জন্য টাকা জমা দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে বড় ছেলে খাইরুল ও প্রতি মাসে ৪০/৫০ হাজার টাকা পাঠাতে পারে বাড়িতে। এর মাঝে জেলে মোক্তার উদ্দিন পাশের গ্রামের একটি এন.জি.ও থেকে কিস্তির মাধ্যমে ৪ লক্ষ টাকা তুলেন চলতি মাসে। তার মোট প্রায় ২২ লক্ষ টাকা জমা হয়েছিল চালের ড্রামে।  গতকাল মঙ্গলবার বৈদ্যুতিক শটসার্কিট থেকে আগুন লাগে তার বসত ঘরে। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে সাড়ে বার টা পর্যন্ত ঘরে আগুন জ্বলে। আগুনে বাড়ীর প্রায় পাঁচটি বসত ঘর পুড়ে যায়। এসময় ঘরে থাকা সব আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তখন চালের ড্রামে থাকা ২২ লক্ষ টাকা নষ্ট হয়। প্রায় ৪/৫ লক্ষ টাকা অর্ধ/আংশিক পুড়া অবস্থায় পাওয়া যায়।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, শ্যামপুর মধ্য পাড়া এলাকায় রিয়াজ মিয়ার ঘরে প্রথমে অগ্নিকান্ড ঘটে। সাথে সাথে আগুনের তীব্রতায় এক ঘর থেকে পাশাপাশি অন্য ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পাঁচটি ঘর আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। স্থানীয়দের চেষ্টার মাধ্যমে দুই ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে গ্রামবাসী। তবে শ্যামপুর গ্রামটি উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। আগানগর ইউপির সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমার বোনের শুশুর বাড়ী শ্যামপুর গ্রামে। তার বসতঘর পুরে ছাই হয়ে গেছে। আমার বোন খাইরুন্নেসার ঘরে স্বর্ণ ছিল অগ্নিকান্ডের সেই স্বর্ণ আনতে গেলে সে আহত হয়।  

গ্রামের ফজলু রহমান জানান, মোক্তার উদ্দিন সহজ সড়ল মানুষ। প্রতিদিন মাছ ধরা ব্যাতিত অন্য কাজে মনোযোগ নাই। কয়েকমাসে একবারও উপজেলা সদরে যাওয়া হয়না তার। সে ব্যাংকে টাকা রাখতে বিরাম্ভনা মনে হয়। এজন্য তার কোন ব্যাংক একাউন্ট নেই।

মোক্তার উদ্দিন জানান, আমি অনেক কষ্ট করে হাজার টাকা থেকে লক্ষ টাকার বান্ডিল বানিয়ে চালের ড্রামে রাখতাম। ভোরে নদীতে গিয়ে রাতে বাড়ী ফিরতাম আবার কোনদিন সন্ধ্যায় নদীতে গিয়ে সকালে বাড়ী ফিরতাম। এমন করে প্রতিদিন দুই/তিন হাজার টাকার মাছ বিক্রি করে আয় হত। কষ্টের এই টাকা নষ্ট হওয়াতে আমি দিশেহারা। কিভাবে আমার ছেলেকে মালেশিয়া পাঠামো এখন তা বুঝতেছি না।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.কে.এম মামুনুর রশিদ জানান, আমি আগুনের পুড়ে যাওয়া ঘটনা শুনেছি। খোঁজ নিয়েছি তারা মোটামুটি অস্বচ্ছল পরিবার। আগামাীকাল বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোকে শুকনো খাবার পৌছানোর কথা রয়েছে। তবে প্রায় ৪/৫ লক্ষ টাকা অর্ধ/আংশিক পুড়া টাকার বিষয়ে তা যাচাই/বাচাই করে ক্ষতিগ্রস্থকে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে তাকে কিছুটা পরিবর্তন করে পরিবর্তিত টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে