আমানত ফেরত শুরু, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকদের ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদন
| আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০২ এএম | প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০২ এএম
আমানত ফেরত শুরু, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকদের ভিড়

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যক্তি হিসাবের গ্রাহকদের মূল আমানতের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন শাখায় টাকা তুলতে ভিড় করেন গ্রাহকেরা। তবে আমানত উত্তোলনে কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। তুলনামূলক কম অঙ্কের আমানতের ক্ষেত্রে সরাসরি টাকা তোলার সুযোগ থাকলেও বেশি আমানতের গ্রাহকদের নির্ধারিত ফরম পূরণ করতে হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি হিসাবধারীদের মূল আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। রাজধানীর শাখাগুলোতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত বা চলতি হিসাবের গ্রাহকদের সরাসরি ক্যাশ কাউন্টার থেকে টাকা তুলতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে তুলনামূলক বেশি আমানত থাকা গ্রাহকদের ফরম পূরণ করে ব্যাংকিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দিতে হচ্ছে। এসব তথ্য ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর পর সর্বোচ্চ সাত কর্মদিবসের মধ্যে টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে।

নতুন এই প্রক্রিয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গ্রাহকেরা। তাদের কয়েকজন জানান, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন। মুনাফাসহ পাওনা অর্থ ফেরত পাওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন তারা।

চট্টগ্রামেও সকাল থেকে টাকা তুলতে ব্যাংকের শাখাগুলোতে গ্রাহকদের ভিড় দেখা যায়। আমানতকারীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার পর টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্বস্তির কথা জানান গ্রাহকেরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকও আমানত ফেরতের এই প্রক্রিয়াকে গ্রাহকদের আস্থা পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “১ সেপ্টেম্বর থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা দেবে। শর্তসাপেক্ষে সে ঘোষণাপত্র আমরা দিই। সেভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই ধরনের ক্লিয়ার ইন্সট্রাকশন গ্রাহকদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।”

ব্যাংকটির শাখা ও উপশাখাগুলোতে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। ব্যক্তি হিসাবধারীরা একবারে তাদের আমানতের সম্পূর্ণ মূল টাকা উত্তোলন বা নগদায়ন করতে পারবেন।

তবে মেয়াদি আমানত ভেঙে মূল টাকা তুলে নিলে উত্তোলিত অর্থের বিপরীতে কোনো মুনাফা পাওয়া যাবে না। যেসব গ্রাহক হিসাব সচল রাখবেন, তারা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত হারে মুনাফা পেতে থাকবেন।

এদিকে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফার একটি অংশ কমিয়ে দেওয়ার যে প্রস্তাব ছিল, তা বাংলাদেশ ব্যাংক বাতিল করেছে। ফলে মেয়াদি আমানতের বিপরীতে ঘোষিত পুরো মুনাফা পাওয়ার কথা রয়েছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সিনিয়র অফিসার মাইনুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকিং কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়া স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী গ্রাহকদের অর্থ দেওয়া নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বিঘ্নে অর্থ পরিশোধ, স্বচ্ছতা এবং আমানতকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ব্যাংকের প্রতি আস্থা পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোতে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা আছে। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবে রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।

বিভিন্ন কারণে আমানত ফেরত দিতে সমস্যায় পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করা হয়েছে। নতুন ব্যাংকটির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হচ্ছে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। সে লক্ষ্যেই আমানত ফেরতের কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে