খানসামায় দুই বিসিআইসি সার ডিলারের গুদামে অভিযান, সার জব্দ

এফএনএস (সিকান্দার আলী কাবুল; খানসামা, দিনাজপুর) : | প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
খানসামায় দুই বিসিআইসি সার ডিলারের গুদামে অভিযান, সার জব্দ

দিনাজপুরের খানসামায় অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুত ও অনিয়মের অভিযোগে দুই সার ডিলারের গুদামে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। পৃথক অভিযানে মোট ৬৫৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পাকেরহাট ও টংগুয়া বাজার এলাকায় পৃথকভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান সূত্রে জানা গেছে, পাকেরহাট এলাকায় ‘মেসার্স মহাদেব ট্রেডার্স’-এর গুদামে অভিযান চালিয়ে ৪৫০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মহিতোষ চন্দ্র চন্দ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) নিবন্ধিত সার ডিলার। অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুত রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে গুদামটি সিলগালা করা হয়। জব্দ করা ৪৫০ বস্তা সারের মধ্যে নোয়াপাড়া গ্রুপের ক্রয় করা ৩০০ বস্তা মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি), বিএডিসি গ্রুপের ৫০ বস্তা এমওপি এবং ১০০ বস্তা ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) রয়েছে।

অন্যদিকে, উপজেলার টংগুয়া বাজারে বিসিআইসি অনুমোদিত রাসায়নিক সার ডিলার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আসাদুজ্জামান ট্রেডার্স’-এ অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা আরও ২০৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়।

অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির সার ডিলার আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ডিলার পয়েন্টটি পরিচালনা করছিলেন। অভিযানের সময় অবৈধভাবে সার মজুত রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্টদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। টংগুয়া বাজারের ওই গুদাম থেকে জব্দ করা ২০৭ বস্তা সারের মধ্যে ৯৪ বস্তা ডিএপি, ৫৫ বস্তা ইউরিয়া এবং ৫৮ বস্তা এমওপি সার রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জব্দ করা সার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এসব সার আগামীকাল স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা হবে। বিক্রয়লব্ধ সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদনান কবির উদয় এবং খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে ও সঠিক সময়ে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে কিংবা কৃষকদের হয়রানি করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সার মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে ডিলারদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ ও জরিমানা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে