সুজানগরে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে দেড় কোটি টাকা উত্তোলন

এফএনএস (সুজানগর, পাবনা) : | প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
সুজানগরে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে দেড় কোটি টাকা উত্তোলন

পাবনার সুজানগরের দুলাই সরকারি ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডক্টর আব্দুল মজিদের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে কলেজের অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর মুদ্রাক্ষরিক মোঃ গিয়াস কামাল তপনের বিরুদ্ধে।  জনতা ব্যাংক দুলাই শাখায় থাকা কলেজের নামীয় একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময় ওই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে উক্ত তপন। গত ১০ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর জাল করে কলেজের  একাউন্ট থেকে মোটা অংকের ওই টাকা উত্তোলন করার ঘটনা কলেজ অধ্যক্ষর নজরে আসে। অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ অত্যন্ত বিশ্বাস করে কলেজের নামীয় সকল একাউন্টের চেক উক্ত তপনের কাছে  রাখার সুযোগে সে তার ইচ্ছামতো অধ্যক্ষর স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে ওই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে। তবে ওই টাকা আত্মসাতের  সাথে শুধু তপন নয়, ব্যাংক কর্মকর্তাদেরও যোগসাজশ আছে বলে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ ধারণা করছেন। কেননা  নিয়ম অনুযায়ী কলেজের অ্যাকাউন্ট থেকে কোন প্রকার টাকা ডেবিট হলে অ্যাকাউন্ট হোল্ডার মোবাইল ফোনে মেসেজ পাওয়ার কথা। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে উক্ত তপন স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন সময় কলেজের একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করলেও অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ এ সংক্রান্ত কোনো মেসেজ তার মোবাইল ফোনে পাননি।  তবে কলেজের প্রয়োজনে বৈধ স্বাক্ষরিত চেকে ওই ব্যাংক থেকে যে টাকা ডেবিট হয়েছে সে মেসেজ তিনি পেয়েছেন।  শুধু ভুয়া স্বাক্ষরিত চেকে ডেবিট করা টাকার মেসেজ তিনি পাননি। ফলে মোটা অংকের ওই টাকা আত্মসাতের সাথে ব্যাংক কর্মকর্তাদের যে যোগসাজশ আছে তা সন্দেহাতীতভাবে প্রতিীয়মান হয়। তাছাড়া নিয়ম অনুযায়ী কোন অ্যাকাউন্ট হোল্ডার বৈধ স্বাক্ষর করে অন্যের নামে চেক দিলেও টাকার অংক এক লক্ষর বেশি হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ডেবিট করার আগে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে ফোন করবেন অথবা চেক বহনকারী ব্যক্তির পরিচয়পত্র জমা নিবেন।  কিন্তু উক্ত তপন দফায় দফায় কলেজের একাউন্ট থেকে কলেজ অধ্যক্ষর স্বাক্ষর জাল করে মোটা অংকের টাকা উত্তোলন করলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অধ্যক্ষকে কখনো অবহিত করেননি। ফলে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ডক্টর আব্দুল মজিদসহ কলেজের অন্যান্য শিক্ষকরা মনে করেন ওই টাকা আত্মসাতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষর যোগশাজস আছে। জানা যায়, অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ কলেজের প্রয়োজনে গত ১০ সেপ্টেম্বর  উক্ত তপনের মাধ্যমে জনতা ব্যাংক দুলাই শাখার একটি একাউন্ট থেকে ২২হাজার ৫০০ টাকা  উত্তোলন করেন এবং যথারীতি তিনি তার মোবাইল ফোনে টাকা ডেবিট করার মেসেজ পান। পাশাপাশি ওই দিনই একই একাউন্ট থেকে আরো ২ লক্ষ ২২ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে মর্মে অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ তার মোবাইল ফোনে আরো একটি মেসেজ পান। আর এতেই তার জাল স্বাক্ষরে কলেজের একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করে হাতিয়ে নেওয়ার সন্দেহ ঘনীভূত হয়। একপর্যায়ে অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ ব্যাংকে গিয়ে উক্ত তপন কর্তৃক তার স্বাক্ষর জাল করে কলেজের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে মোটা অংকের ওই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার প্রমাণ পান।  এ ব্যাপারে উক্ত তপনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন আমি কখনো অধ্যক্ষ স্যারের স্বাক্ষর জাল করে কলেজের একাউন্ট থেকে কোন প্রকার টাকা উত্তোলন করি নাই। জনতা ব্যাংকের ম্যানেজার মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন কলেজ অধ্যক্ষর স্বাক্ষর জাল করে কলেজের একাউন্ট থেকে কেউ কখনো কোন টাকা ডেবিট করে নাই। এমনকি স্বাক্ষর জাল করে কোন চেক দিয়ে কারো অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ডেবিট করার সুযোগ নেই।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে