ব্যালন ডি’অরের মানদণ্ড নিয়ে ইয়ামালের প্রশ্ন, মেসি-রোনালদোর উদাহরণ

এফএনএস স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০১ এএম
ব্যালন ডি’অরের মানদণ্ড নিয়ে ইয়ামালের প্রশ্ন, মেসি-রোনালদোর উদাহরণ
ছবি: সংগৃহীত

ব্যালন ডি’অর পুরস্কার নির্ধারণের বর্তমান মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সময়ে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় বাছাই নিয়ে যে স্পষ্টতা ছিল, এখন তা নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তার মতে, চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা, বেশি গোল করা কিংবা বেশি শিরোপা অর্জন করাই ব্যক্তিগত পুরস্কারের একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত নয়।

মুভিস্টার প্লাসের ‘ইউনিভার্সো ভালদানো’ অনুষ্ঠানে দেওয়া পূর্ণ সাক্ষাৎকারে ব্যালন ডি’অর নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন ইয়ামাল। সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ আগেই প্রকাশিত হলেও পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত পুরস্কার নিয়ে আরও বিস্তারিত কথা বলেন ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

গোল ডট কম জানিয়েছে, ইয়ামাল মনে করেন মেসি ও রোনালদোর সময় ব্যালন ডি’অর নিয়ে প্রতিযোগিতার চিত্র অনেকটাই পরিষ্কার ছিল। তার ভাষায়, "মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো যখন ছিলেন, তখন সবাই জানত তারাই বিশ্বের সেরা। তাই পুরস্কারটি মূলত এই দুজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত।"

বর্তমান ব্যবস্থার সমালোচনা করে ইয়ামাল বলেন, এখন এমন কিছু বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, যেগুলো ব্যক্তিগত সেরার পুরস্কারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। উদাহরণ হিসেবে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের কোনো খেলোয়াড় চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে বলে তাকে ব্যালন ডি’অরের দাবিদার হিসেবে দেখানোর প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।

ইয়ামালের মতে, চ্যাম্পিয়নস লিগ দলীয় সাফল্যের স্বীকৃতি। সেখানে দল হিসেবে সেরা হওয়ায় একটি দল ট্রফি পায়। কিন্তু ব্যালন ডি’অর ব্যক্তিগত পুরস্কার, তাই সেটির মাপকাঠিও আলাদা হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, শুধু ৮০ গোল করলেই কোনো খেলোয়াড়কে বিশ্বের সেরা বলা যায় না। কারণ সর্বোচ্চ গোলদাতার জন্য আলাদা পুরস্কার রয়েছে। তার দৃষ্টিতে, ব্যালন ডি’অর পাওয়া উচিত সেই খেলোয়াড়ের, যাকে মাঠে দেখে অন্যদের চেয়ে আলাদা মনে হয় এবং যার খেলা দর্শক উপভোগ করেন।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোও ইয়ামালের এই মন্তব্য তুলে ধরেছে। সেখানে তিনি বলেন, ব্যালন ডি’অর যদি আবার সত্যিকারের সেরা খেলোয়াড়কে দেওয়ার দিকে ফিরে যায়, তাহলে পুরস্কারটির প্রকৃত মূল্যও ফিরে আসবে।

সাক্ষাৎকারে ফুটবল দেখার ধরনেও বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে নিজের পার্থক্য তুলে ধরেন ইয়ামাল। ছোটবেলায় তিনি ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে শেষ মিনিট পর্যন্ত পুরো খেলা দেখতেন বলে জানান। কোনো খেলোয়াড় কত গোল বা অ্যাসিস্ট করেছেন, তা জানার জন্য অ্যাপের পরিসংখ্যান দেখার ওপর নির্ভর করতেন না।

এ প্রসঙ্গে মেসুত ওজিলের উদাহরণ দেন তিনি। ইয়ামাল বলেন, এমন খেলোয়াড়ও আছেন, যারা হয়তো ২০ গোল করেন না, কিন্তু তাদের খেলা দেখতে অসাধারণ লাগে। নিজের কাছে ফুটবলের আনন্দের জায়গাটি সেখানেই।

বর্তমান প্রজন্মের ম্যাচ দেখার প্রবণতা নিয়েও তার আপত্তি আছে। ইয়ামালের মতে, এখন অনেকেই অ্যাপের পরিসংখ্যান দেখে ম্যাচের মূল্যায়ন করেন। কোনো খেলোয়াড় দুই গোল ও দুই অ্যাসিস্ট করলেই তাকে দুর্দান্ত ম্যাচ খেলেছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

নিজের ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন ইয়ামাল। কোনো ম্যাচে গোল না করেও ভালো খেলতে পারলে তিনি সন্তুষ্ট থাকেন। কারণ তার কাছে ফুটবল শুধু গোল করার বিষয় নয়, গোলরক্ষকের কাছ থেকে বল বের হওয়ার পর পুরো আক্রমণ গড়ে ওঠার প্রক্রিয়াটিও খেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ম্যাচ শেষে নিজের মন খারাপের কারণ নিয়েও কথা বলেন বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড। বাড়ি ফেরার পর কখনো কখনো রাগান্বিত থাকলে তার মা জানতে চান, গোল করতে না পারার কারণেই কি তিনি বিরক্ত। ইয়ামাল জানান, গোল না করার কারণে তিনি রাগ করেন না।

তার ভাষায়, গোল কেবল পরিসংখ্যানের একটি সংখ্যা। বরং কোনো ম্যাচে বলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে না পারা এবং খেলা উপভোগ করতে না পারাই তাকে বেশি হতাশ করে।

সাক্ষাৎকারে সতীর্থদের সঙ্গে মাঠের কৌশল নিয়েও আলোচনা করেন ইয়ামাল। অনুশীলনে ফারমিন লোপেজ, এরিক গার্সিয়া ও জুল কুন্দের সঙ্গে জায়গা তৈরি করা এবং দৌড়ের সময় নিয়ে কথা বলেন তিনি।

তার মতে, ফুটবলের সবচেয়ে সহজ বিষয়গুলোই অনেক সময় সবচেয়ে কার্যকর। কোনো খেলোয়াড় ফাঁকা জায়গার দিকে দৌড় দিলে প্রতিপক্ষের রক্ষণ থেমে যাওয়ার একটি মুহূর্ত তৈরি হয়। সেই ক্ষণটিকে কাজে লাগাতে দৌড় ও পাসের সময়ের সমন্বয় নিখুঁতভাবে অনুশীলন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে