দুধের জন্য কাঁদছিল ৭ মাসের হুসাইন

দাদির আকুতিতে সাড়া দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান

এফএনএস (মোঃ রিয়াছাদ আলী; কয়রা, খুলনা) : | প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
দাদির আকুতিতে সাড়া দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান

একদিকে অসুস্থ মা, অন্যদিকে অসহায় বাবা। সংসারে উপার্জনক্ষম কেউ নেই। পরিবারের একমাত্র ভরসা বৃদ্ধ দাদি ভিক্ষা করে যাঁর কোনো রকমে চলে সংসার। সেই সংসারেই সাত মাসের শিশু হুসাইন। মায়ের বুকের দুধ না পাওয়ায় ক্ষুধায় কাঁদছিল শিশুটি। কিন্তু দুধ কেনার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীফলতলা গ্রামের এই শিশুটির অসহায়ত্বের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নজরে আসে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের। শিশুটির কষ্টের কথা জানতে পেরে তিনি হুসাইন ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। জানা গেছে, হুসাইনের বাবা ও মা দুজনেই শারীরিকভাবে অসুস্থ। ফলে সংসার চালানোর দায়িত্ব এসে পড়েছে বৃদ্ধ দাদির ওপর। সামান্য যা আয় হয়, তা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের দু’বেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন। সেখানে শিশুর দুধ, চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ বহন করা তাঁর কাছে ছিল প্রায় অসম্ভব। পরিবারের ভাষ্য, মায়ের বুকের দুধ না পাওয়ায় একপর্যায়ে শিশুটিকে অনুপযুক্তভাবে লবণ পানি খাওয়ানো হচ্ছিল। পরে শিশুটির মধ্যে অপুষ্টি, ত্বকের সমস্যা ও মুখে ক্যান্ডিডিয়াসিসের উপসর্গ দেখা দেয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। শিশুটির এমন অসহায় অবস্থার খবর পেয়ে ডা. জুবাইদা রহমান জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনায় ফাউন্ডেশনের সদস্য ডা. এম. আর. হাসানের তত্ত্বাবধানে হুসাইন ও তার পরিবারকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুটির চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় দুধ ও পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে।

হাসপাতালে নাতিকে নিয়ে থাকা বৃদ্ধ দাদির চোখে তখন শুধু অসহায়ত্ব আর বাঁচার আকুতি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি ভিক্ষা করে সংসার চালাই। বাচ্চাটার দুধ কেনার সামর্থ্য আমার নেই। আমি আমার নাতিটাকে বাঁচাতে চাই। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অসহায় সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান এবং ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। মুখে একটু দুধের জন্য যে শিশুটির কান্না পৌঁছে গিয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, সেই কান্নার পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিকতার হাত। এখন পরিবারের একটাই প্রত্যাশা চিকিৎসা ও পুষ্টির অভাবে যেন আর কোনো শিশুর জীবন অনিশ্চয়তার মুখে না পড়ে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে