শনিবার শুরু হচ্ছে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন, থাকছেন দুই শতাধিক আলোচক

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
শনিবার শুরু হচ্ছে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন, থাকছেন দুই শতাধিক আলোচক
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় শনিবার (৩ অক্টোবর) শুরু হচ্ছে পঞ্চম ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন চলবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি বক্তব্যও দেবেন। 

‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে এবারের সম্মেলনে শতাধিক দেশের দুই শতাধিক আলোচক, তিন শতাধিক ডেলিগেট এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যুক্ত হবেন। এতে সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, সামরিক বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, প্রযুক্তিবিদ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। 

ইতোমধ্যে সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারা এবং মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্যেও তাঁদের বক্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সম্মেলন উপলক্ষে শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে সিজিএস। এতে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী। সিজিএসের পরিচালক সুবীর দাস, গবেষণা সহকারী তাসফিয়া রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের অন্য সদস্যরাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

জিল্লুর রহমান বলেন, বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে এ অঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কার্যকর সমাধান খোঁজা এবারের সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য।

এবারের আলোচনায় ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা, আস্থা, জলবায়ু পরিবর্তন, আধ্যাত্মিকতা ও মানবিকতার মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী ভূরাজনৈতিক বিভাজন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার রূপান্তর, জলবায়ু চাপ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনআস্থার সংকটও আলোচনায় আসবে।

বিশ্বে নতুন নতুন প্রভাবকেন্দ্র তৈরি হওয়া এবং বিভিন্ন দেশের অংশীদারত্ব পুনর্বিবেচনার বিষয়টিও এবারের সংলাপে গুরুত্ব পাবে। পরিবর্তিত এসব বাস্তবতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতবিনিময় করবেন।

সিজিএস সভাপতি বলেন, বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের লক্ষ্য ঢাকাকে এমন একটি আন্তর্জাতিক সংলাপের কেন্দ্রে পরিণত করা, যেখানে বিভিন্ন দেশ ও ভিন্নমতের মানুষ খোলামেলা আলোচনার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে এমন ব্যক্তিদের একত্র করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যারা সাধারণত একই পরিসরে মতবিনিময়ের সুযোগ পান না।

সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, সময়ের সঙ্গে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের পরিসর বেড়েছে এবং কঠিন ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এবারের সম্মেলনে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হবে।

তিনি সম্মেলনের বিভিন্ন সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

জিল্লুর রহমান আরও জানান, সিজিএস ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। ভবিষ্যতে ব্রাসেলস ও দুবাইয়েও কার্যক্রম বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

আয়োজকদের তথ্যমতে, এবারের সম্মেলনে ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও যোগাযোগ, জলবায়ু সহনশীলতা ও মানবনিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও সুশাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। বঙ্গোপসাগরের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বও থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে। 

সম্মেলনের কর্মসূচিতে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন, নেতৃত্ববিষয়ক ফোরাম, কৌশলগত সংলাপ, বিশেষ আলোচনা এবং তরুণ নেতৃত্বের জন্য আলাদা অধিবেশন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী বক্তব্যের পাশাপাশি ‘বে অব বেঙ্গল লেকচার’ এবং ‘হোয়াই দ্য বে ম্যাটার্স টু দ্য ওয়ার্ল্ড’সহ কয়েকটি বিশেষ অধিবেশনও রাখা হয়েছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, তিন দিনের এই সম্মেলনে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলসহ বৃহত্তর বিশ্বে পরিবর্তিত ভূরাজনীতি, ক্ষমতা, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, জলবায়ু ও আস্থার নতুন বাস্তবতা নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। সম্মেলনের বিস্তারিত কর্মসূচি, অধিবেশনের বিষয়বস্তু ও আলোচকদের তালিকা বিওবিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে