রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে দিনমজুর হেলাল উদ্দিনের পরিবার। আগুনে পুড়ে মারা গেছে একটি ছাগল। গুরুতর দগ্ধ হয়েছে একটি গাভীন গরু। পুড়ে ছাই হয়েছে রিকশা-ভ্যান, ঘরের আসবাবপত্র, পোশাক, মেয়ের পড়ার বই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিত্যব্যবহারের সবকিছু।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী এলাকার ফরাদপুর গ্রামের সাদ্দামপাড়ায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত হেলাল উদ্দিন ওই এলাকার দিনমজুর। তার দুই সন্তান রয়েছে। পরিবারটি জানায়, প্রতিদিনের মতো ভোরে হেলাল কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তার স্ত্রী রান্না করতে রান্নাঘরে যান। রান্নাঘরের পাশে রাখা পাটকাটি/পাটে কোনোভাবে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাড়িতে।
আগুনে বসতঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পুড়ে মারা যায় একটি বড় ছাগল। যার আনুমানিক মূল্য ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। গাভীন একটি গরুও আগুনে গুরুতর দগ্ধ হয়েছে। বর্তমানে সেটি জীবিত থাকলেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবার জানিয়েছে।
এ ছাড়া আগুনে পুড়ে গেছে একটি রিকশা-ভ্যান, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। ঘরের আসবাবপত্র, পোশাক, মেয়ের পড়ার বই, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পরিবারটির দাবি, ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র পুনরায় ঠিক করতে অনেক টাকার প্রয়োজন হবে। দগ্ধ গরুটির চিকিৎসা ও রিকশা-ভ্যান মেরামতেও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসে একাধিকবার ফোন করা হয়। তবে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গোপালপুর এলাকা থেকে ফিরে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
অগ্নিকাণ্ডে হেলাল উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে দগ্ধ অবস্থায় হেলালের স্ত্রী প্রেমতলী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
একদিকে বসতঘর পুড়ে ছাই, অন্যদিকে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন রিকশা-ভ্যানটিও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত। গবাদিপশুর মধ্যে একটি মারা গেছে এবং গাভীন গরুটিও গুরুতর দগ্ধ। ফলে দুই সন্তান নিয়ে পরিবারটির সামনে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
অবস্থায় আগুনে সর্বস্ব হারানো হেলাল উদ্দিনের পরিবারটি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা না হলে পরিবারটির পক্ষে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা কঠিন হয়ে পড়বে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মমিনুল হক বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমাদের কাছে রিপোর্ট পাঠালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় ব্যাক্তি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বা মেম্বারের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ক্ষতিগ্রস্থের রিপোর্ট পাঠালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এছাড়া আমি নিজে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেকে ফোনে বলে দিচ্ছি বলে জানান।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অসহায় দিনমজুর পরিবারের দুর্দশার বিষয়টি বিবেচনা করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেবে।