বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির কার্ড বিতরণে উপকারভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে। উপকারভোগীদের অভিযোগ, সরকারের (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির কার্ড নেওয়ার জন্য তাঁরা ইউনিয়ন পরিষদে গেলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা খলিলুর রহমান প্রত্যেকের কাছ থেকে টাকা দাবি করেন। এ সময় তিনি উপকারভোগীদের কাছে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুপ কুমার পাল এর নাম ও ‘অফিস খরচ-এর দোহাই দিয়ে প্রতি জনের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়। টাকা নেওয়ার খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গত বুধবার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে এক হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রশাসনিক কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বাধ্য হয়ে রওশনয়ারা নামে এক উপকারভোগীকে আদায়কৃত ৩০০ টাকা ফেরত দিয়েছেন। ভিডব্লিউবির উপকারভোগী রওশনয়ারা অভিযোগ করেন, "আমি ইউনিয়ন পরিষদে কার্ড নিতে গেলে সচিব খলিলুর রহমান ৩০০ টাকা চান। টাকা দেওয়ার পর তিনি আমাকে আগষ্ট-সেপ্টেম্বর দুই মাসের চাল দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে তিনি আমার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন।" নাম প্রকাশ না করার শর্তে দু'জন কার্ডধারী অভিযোগ করেন, "তাদের কাছ থেকে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব খলিলুর রহমান কার্ড বিতরণে ৩০০ টাকা করে আদায় করেছেন।"
অভিযোগ স্বীকার করে ছোটবগী ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) খলিলুর রহমান বলেন, "নতুন ভিজিডি (ভিডাব্লিউবি) কার্ডের জন্য ৩০০ টাকা করে নেয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী দুই-একজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়াও হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে চেয়ারম্যান সাহেব টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিলে আমরা তা ফেরত দিয়ে দিই।" এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রূপ কুমার পাল বলেন, "ভিডব্লিউবি কর্মসূচির কার্ড বা চাল বিতরণে কোনো প্রকার টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। আমার নাম ভেঙে কেউ টাকা আদায় করে থাকলে তা অত্যন্ত অন্যায়। দ্রুত টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, ভিডব্লিউবি কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৭ ইউনিয়ন পরিষদে ১ হাজার ৬৫২ জন দুস্থ নারী তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ছোটবগী ইউনিয়ন পরিষদে হয়েছেন ৩০০ জন। প্রতি কার্ডধারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওই কর্মসূচির আওতায় বিনা মূল্যে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল ২৪ মাস পাবেন।