রাজশাহীর বাগমারায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
উন্নয়নমূলক কাজের বিপরীতে নির্ধারিত হারে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এলজিইডির তদারকি ছাড়াই নিম্নমানের খোয়া, রাবিশ ও মাটি মিশ্রিত বালু দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হলেও সামগ্রীর নিম্নমান দেখে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সড়কে ব্যবহার করা নিন্মমানের সামগ্রীগুলো পরিবর্তন করে সঠিক সামগ্রী ব্যবহারের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়রা।
বাগমারা উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র মতে, উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের কানাইশহর মোড় থেকে গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের জিয়াপাড়া রাস্তা পর্যন্ত ১.৪৫ কিলোমিটার সড়কটি নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এক কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণ কাজ পেয়েছেন মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজ নামের রাজশাহীর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কাজটি করছেন বাগমারা উপজেলার অসির নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের রাবিশ মিশ্রিত খোয়া ও মাটিযুক্ত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি রাস্তার দুই পাশে ব্যবহৃত ইটগুলোও অত্যন্ত নিম্নমানের। স্থানীয় লোকজন উন্নয়নমূলক কাজের সম্পর্কে দায়িত্বে থাকা উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল জলিলকে অবহিত করলেও তিনি তাতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে উলটো ঠিকাদারদের পক্ষেই সাফাই গেয়ে থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়রা। এছাড়াও কাজ চলাকালীন তদারকির জন্য এলজিইডির কোনো কর্মকর্তাকেই সেখানে পাওয়া যায়নি। সড়ক নির্মাণ ও মেরামতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইটের খোয়া, বালি নিুমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, মূল ঠিকাদারের পরিবর্তে অদক্ষ ঠিকাদার দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। রাস্তা তৈরির সময় ঠিকাদারের কাজের যথাযথভাবে তদারকি না করা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহানোর পর সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। তবে সেখানে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান খুবই খারাপ। সঠিকভাবে সড়কটি নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয়রা সড়কটির চলমান কাজ বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, রাস্তা নির্মাণ কাজে সকল প্রকার সামগ্রী এত নিম্নমানের দিয়ে কাজ করা হচ্ছে, তাতে নির্মাণের পর ছয় মাসও সড়কটি টিকবে কিনা সন্দেহ আছে। তবে এসব ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ আরাফ এন্টারপ্রাইজ’ এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাফ ঠিকাদার অসির আলীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে, তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। দায়িত্বে থাকা আব্দুল জব্বারের যোগাযোগ করলে, তিনি বলেন, অসির নতুন মানুষ কাজ সম্পর্কে কম বুঝেন, তাই আমি দেখাশোনা করছি। রাস্তা নির্মাণ কাজের অনিয়ম নিয়ে জিজ্ঞেসা করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা এলজিইডি অফিস যেভাবে বলছেন, সেভাবেই কাজ করা হচ্ছে।
গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: হাবিবুর রহমান বলেন, রাস্তার কাজ শুরু থেকে নিন্মমানের সামগ্রীর বিষয়ে আমিসহ স্থানীয়রা প্রতিবাদ করে কোন প্রতিকার হচ্ছে না। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বাগমারা উপজেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল জলিল বলেন, প্রথম অবস্থায় নিন্মমানের সামগ্রী নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে সঠিক ভাবে কাজ করা হচ্ছে।
বাগমারা উপজেলা প্রকৌশলী মো: মুনছুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।