আবারও কর্মী ছাঁটাই করছে অ্যামাজন

এফএনএস আইটি | প্রকাশ: ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:২২ এএম
আবারও কর্মী ছাঁটাই করছে অ্যামাজন

অ্যামাজনে আবারও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এবার মূলত প্রতিষ্ঠানটির খুচরা ব্যবসা বিভাগের কর্মীরা চাকরি হারিয়েছেন। অ্যামাজন জানিয়েছে, ছাঁটাইয়ের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এক হাজারের মতো কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে অ্যামাজনের অন্যতম বড় কেনাকাটার আয়োজন ‘প্রাইম বিগ ডিল ডেজ’ শুরু হয়েছে। দুই দিনের এই আয়োজন চলার মধ্যেই কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর সামনে এল। বিভিন্ন পণ্যে ছাড় দিয়ে গত বুধবার পর্যন্ত এই আয়োজন চলেছে। অ্যামাজনের খুচরা ব্যবসার প্রধান অংশ ‘স্টোরস’ ইউনিট। প্রতিষ্ঠানটির মূল ই-কমার্স ওয়েবসাইটও এই বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয়। অ্যামাজনের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘স্টোরস’ বিভাগের কিছু অংশে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কাঠামো ব্যবসার অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নে আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, ‘স্টোরস’ বিভাগের একাধিক ইউনিটে এই ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে গ্রাহকসেবা এবং বিক্রেতা অংশীদারদের সেবা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারত ও যুক্তরাজ্যের কর্মীরাও ছাঁটাইয়ের তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। গত বছর থেকে অ্যামাজনে একাধিক দফায় কর্মী ছাঁটাই চলছে। এর আগে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের বড় একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সেই ছাঁটাইয়ের ধারা চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এরপর বিভিন্ন বিভাগে ছোট পরিসরে কর্মী কমানোর ঘটনা ঘটেছে। গত জুলাইয়ে অ্যামাজনের কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআই বিভাগের কর্মীদেরও ছাঁটাই করা হয়েছিল। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান জেফ বেজোস গত বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগের বড় ছাঁটাইয়ের প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির সময় অ্যামাজন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কর্মী নিয়োগ করেছিল। সে সময় মানুষ ঘরে থাকায় অনলাইনে পণ্য কেনার পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। বেজোস বলেন, মহামারির সময় মানুষ ঘরে থেকে পণ্য অর্ডার করছিলেন এবং সেটি অ্যামাজনের জন্য অত্যন্ত চাপের একটি সময় ছিল। ওই সময়ে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের পর প্রতিষ্ঠানকে এখন কর্মীসংখ্যা সমন্বয় করতে হচ্ছে। নতুন ছাঁটাইয়ের ঘটনা এমন সময়ে সামনে এল, যখন অ্যামাজন একই সঙ্গে ব্যবসার কাঠামো পুনর্গঠন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন বিভাগে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কাজের ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি খরচ কমানোর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে