মহাদেবপুরে তিন ভূয়া চিকিৎসকের জেল জরিমানা

এফএনএস (রওশন জাহান, মহাদেবপুর, নওগাঁ) : | প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
মহাদেবপুরে তিন ভূয়া চিকিৎসকের জেল জরিমানা

নওগাঁর মহাদেবপুরে ডাক্তার না হয়েও চিকিৎসা দেওয়া, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় নিবন্ধন না থাকা, হোমিও ডাক্তারখানায় জটিল আল্ট্রাসনোগ্রাম করা প্রভৃতির দায়ে দুই ভূয়া চিকিৎসকের জেল, জরিমানা, একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে বন্ধ করা ও অপর একজনের জরিমানা করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা এনএসআই, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন এসআরবি সিপিসি-৩, জয়পুরহাট ক্যাম্পের গোয়েন্দা দল ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। সোমবার বিকেলে এসআরবি থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। আভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মহাদেবপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুন নাঈম বিনতে আজিজ। আদালত সূত্র জানায়, আভিযানিক দল উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুঞ্জবন কাজী অফিসের পিছনে গলির ভীতর অবস্থিত “ফাতেমা হোমিও এন্ড আল্ট্রাসনোগ্রাফি সেন্টারে” অভিযান চালিয়ে দেখতে পান যে, ফারুক হোসেন (৩২) নামে একজন হোমিও চিকিৎসক জটিল আল্ট্রাসনোগ্রাম করেন যেটা একজন এমবিবিএস ডাক্তার ছাড়া করতে পারেন না। এছাড়া চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ও ওষুধ বিক্রির বৈধ কোন নিবন্ধন ছিলনা। ভ্রাম্যমাণ আদালতে মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এর ২৮(১) ধারায় ফারুক হোসেনের একমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ২০ দিনের কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে বন্ধ করা হয়। ফারুক হোসেন পোরশা এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে। অভিযানে উপজেলার লিচুতলা এলাকায় প্রয়োজনীয় নিবন্ধন না থাকা “স্পেশালাইজড সেন্টার ফর ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, এখানে যে চিকিৎসককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তার ছাপা প্যাডে ব্যবস্থাপত্র লেখেন প্রতিষ্ঠানের মালিক মাসুম আলী (২৮) নিজেই। চিকিৎসকের ভূয়া স্বাক্ষরও দেন তিনি। এসব অভিযোগে মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এর ২৯ ধারায় মাসুম আলীর এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেয়া হয়। তিনি উপজেলা সদরের সৈয়দ আলীর ছেলে। এছাড়া উপজেলার লিচুতলা হাউস বিল্ডিং মোড়ে “ফাইভ স্টার মেডিকেল সেন্টারে” অভিযান চালানো হয়। সেখানে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেকনিশিয়ান বেদারুল ইসলাম সাইনবোর্ডে নিজেকে চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ হিসেবে পরিচয় দিয়ে নানান রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। তার মেয়ে এমবিবিএস ডাক্তারের নামে ছাপা প্যাডে তিনি নিজেই ভূয়া স্বাক্ষর দিয়ে ব্যবস্থাপত্র দিতেন। এই প্রতিষ্ঠানেরও প্রয়োজনীয় নিবন্ধন নেই। এসব অভিযোগে মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এর ২৮(১) ধারায় বেদারুল ইসলামের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি মান্দা এলাকার মৃত জেহের আলীর ছেলে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে