ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও নানা তৎপরতার মধ্যেও মাদকের ছড়াছড়ি বেড়েই চলেছে। এ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জুলহাস হোসেন সৌরভের নেতৃত্বে ৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ৯ জন মাদক কারবারিকে ভিন্ন মেয়াদে জেলা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সফর আলীর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গত ক’মাসে ১১টি মাদক মামলা দায়েরের মাধ্যমে ১৩ জন আসামীকে গ্রেফতার পূর্বক ফরিদপুর কোর্টে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে আবার ১০ জন আসামীর সামারী ট্রায়ালে বিজ্ঞ আদালত ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে জেলে পাঠানো হয়েছে। তারপরও উপজেলায় ইয়াবা, গাাঁজা ও হেরোইনের মত মাদকের ছড়াছড়ি থেমে নেই। সম্প্রতি, উপজেলা সদর এলাকা থেকে শুরু করে পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলের বিভিন্ন পেশাজীবী, শ্রমজীবী ও জেলে নৌকা পর্যন্ত চলছে মাদকের ছড়াছড়ি। এতে উপজেলার তরুণ ও যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন,“ উপজেলায় মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনিক অভিযান আরও বাড়ানো দরকার। এজন্য তিনি এলাকার রাজনৈতিকবিদ, সাংস্কৃতিক, সমাজকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মী সহ সকলের সহায়তা কামনা করেন”।
আর চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সফর আলী জানান, “ মাদক নিয়ন্ত্রনে শুধু পুলিশের উপর ভর করে বসে থাকলেই হবে না। পুলিশের সাথে উপজেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে বেশী আগাইয়া আসতে হবে। তবেই সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে উপজেলায় মাদক রোধ করা সম্ভব”।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি মাদক রোধে উপজেলায় ৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২জন মাদক কারবারিকে ছয় মাস করে কারাদন্ড ও ৭জনকে ১মাস করে করে কারাদন্ড সহ প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এসব সাজাপ্রাপ্ত মাদক কারবারিরা হলেন-উপজেলার মানিক মোল্লা (২৬), রিমা আক্তার(২০), শেখ মাসুদ (২৮), রুবেল শেখ (৩৫), মোহাম্মদ আশরাফুল (৪০), মোঃ মজিবুর রহমান (৪০), মোঃ বাবলু (৪৭), প্রকাশ চন্দ্র শীল (২৮) ও রাশেদ মৃধা (৩০)।
চরভদ্রাসন থানা সূত্র জানায়, উপজেলায় মাদক রোধে পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গত ক’মাসে ১১টি মামলা দায়েরের মাধ্যমে ১৩জন মাদক কারবারিকে কোর্টে চালান করেছেন এবং আসামীদের কাছ থেকে মোট ৩১৭ পিচ ইয়াবা মাদক জব্দ করেছেন। এদের মধ্যে ১০জন আসামীকে বিজ্ঞ আদালত তাৎক্ষণিক সাজা প্রদান করে জেলে পাঠিয়েছেন। কোর্টে চালানকৃত আসামীরা হলেন- জামাল বেগ (৪০), রাশেদুল খান রাজিব (২০), সাগর (২৮), সেলিম বেপারি (৪৩), মোনাইম সরদার (৩৪), মাসুম শেখ (৪৪), মোঃ লালন খা (২৮), চম্পা বেগম (৫৫), মুক্তা আক্তার (২৫), কামাল মোল্যা (৪৫), মনু মালো (৪০), আলম শেখ (৩০) ও রিপন সরদার (৩২)।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, অত্র উপজেলার বেশীর ভাগ পরিবারের অভিভাবকরা প্রবাসে চাকুরী করেন। তাই অভিভাবকহীন প্রবাসী পরিবারের যুবকরা বিলাসবহুল মোটরসাইকেল নিয়ে অবাধে বখাটেপনা করা সহ মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতী উপজেলায় মাদকের বিস্তার বেপড়োয়া হয়ে ওঠেছে। খোজ নিয়ে জানা যায়, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এড়িয়ে উপজেলার কিছু নতুন মুখ মাদকের রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এরা হলেন- উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের সেক শওকত, সেক রাশেদ, রবিউল মৃধা, মামুন হোসেন, শিশির বেপারী, এমরান খান, সেক ফারুক, রেজাউল করিম, শেখ রানা, মোঃ জসীম ও মোঃ সুজন ভুইয়া।
এছাড়া উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের মুরাদ হোসেন, শেখ আহসান, ফেরদৌস, হাফিজুল. মাসুদ মোল্যা, মোঃ সেলিম মাঝি, মনির জমাদ্দার, মোঃ মিম খান, রাকিব বেপারী, মোঃ সাব্বির, মোঃ শহিদ প্রামানিক, আলমগীর মাঝি ও ডাব্লু ফকির। চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের মোহাম্মদ সেক, বাবু সেক, মোঃ ওবায়দুর রহমান, মিলন সেক ও সামু খালাসী। চরভদ্রাসন ইউনিয়ন ও আশপাশের মোঃ মিজানুর রহমান, রাশেদ পত্তনদার, শাকিল হোসেন, শাহীন খান, ফরহাদ হোসেন, মিলন সেক, আব্দুল্লাহ, কামাল মোল্যা, কামাল মোল্যা, লাভলু ও আলম সেক সহ বিপথগামী অনেকেই মাদক ব্যাবসায় জড়িয়ে পড়েছে বলে জানা যায়। এ ব্যপারে বুধবার চরভদ্রাসন থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই এনামূল হক জানান, “ মাদক নিয়ন্ত্রনে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। যত প্রভাবশালী পরিবারের ছেলে মেয়ে হউক মাদকে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাদের ছাড় দেবে না। পুলিশ সব সময় স্থানীয় যুব সমাজকে সচেতন করে মাদক নির্মূল করার চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে”।