আর মাত্র এক বাকি কোরবানির। কোরবানি ঘিরে কয়রার বাজার গুলোতে জমে উঠেছে গবাদি পশুর হাট। বাজারে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশী থাকায় বড় গরু নিয়ে কিছুটা চিন্তিত বিক্রেতারা। গত কয়েকদিন থেমে থেমে ঝিরিঝিরি ও মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে কয়রায। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও কয়রার বাগালী ইউনিয়নের বামিয়া জেআইবি ক্লাব মাঠ ও ইসলামপুর অস্থায়ী এবং কয়রা সদরের দেউলিয়া বাজারের গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানিকে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে গরু। এখন থেকে দুপুর গড়াতেই ছোট-বড়-মাঝারি আকারের গরু, কয়েক বছর লালন পালনের পর বিক্রির জন্য হাটে তুলেছেন খামারিরা। এখন গরুর সরবরাহ বেশি থাকায় মূল হাটের আশেপাশেও গরু বিক্রির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন ক্রেতারা। এ সকল হাটে ক্রেতা আনাগোনা থাকলেও বিক্রি ছিল কিছুটা কম। অধিকাংশই দেখেছেন, যাচাই করছেন দাম। তবে গত দুই এক দিনে গরু ও ছাগল বিক্রি হয়েছে অনেক। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, ছোট আকারের দুই থেকে চার মন ওজনের গরু, বিক্রি হয়েছে ষাট হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে। মাঝারি আকারের তিন থেকে পাঁচ মন ওজনের গরুর দাম, ১ লাখ ২০ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে। বিশাল আকারের গরু এ সকল বাজারে তেমন ছিল না। মহারাজপুর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের আজিজুল শেখ জানান, বাজারে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকার গরুর চাহিদা বেশি। যারা ছোট গরু বাজারে এনেছেন তারা কিছুটা লাভের মুখ দেখছেন। বড় গরুর চাহিদা কম থাকায় বিক্রিও কম। খুব বেশী লাভ হচ্ছে না। ৫নং কয়রা গ্রামের অরুন মন্ডল,বলেন, পশু পালনে খরচ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় মিলছে না দাম। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, গত বছর ২ হাজার টাকায় যে খড় পাওয়া যেত এ বছর তার দাম ৩ হাজার টাকা। ভূষি, খুদ, কুড়ার দামও প্রায় আগের তুলনায় ৫০ ভাগ বেড়েছে। খরচ বাড়লেও গরুর দাম আগের মতোই। ক্রেতাদের ভাষ্য, বৈরি আবহাওয়ার জন্য ক্রেতা কম। এছাড়াও বিগত বছরগুলোতে যারা বড় বড় গরু কিনতেন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারনে তাদের বেশিরভাগ পলাতক। ফলে বাজারে গরু বেচাকেনা কম। সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থাও খারাপ। এ কারণে বড় গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা। আমাদি ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী তাবিবুর রহমান বলেন, যারা পলাতক তারা অনেক টাকার মালিক ছিল। অনেকগুলো কোরবানি দিত। বড় থেকে শুরু করে পাতি নেতারাও গরু কিনত। সেই অংশটা বাজারে না আসায় চাঙ্গা ভাবটা নেয়। উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের কাছারিবাড়ি গ্রামের আকবার আলী দেউলিয়া বাজারে গরু কিনতে এসে বলেন, আমি একটি গরু আগেই কিনেছি এখন, ঘুরে ঘুরে গরু দেখছি। বাজেট আর পছন্দ মতো হলে আরও একটা কিনব। তিনি আরও বলেন, আজকের হাটেই জমজমাট বেচাকেনা হচ্ছে। তবে বড় গরুর বিক্রি নেই বললেই চলে। বড় গরুর খামারিদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। দেউলিয়া বাজারের ইজাদার আহাদুর রহমান লিটন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর হাটে গরু বেচা কেনা কম। তবে শেষ দিকে একটু গরু বিক্রি বেশি হয়েছে। কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ জিএম ইমদাদুল হক বলেন, এ বছর কয়রার ৩ টি গরুর হাটের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। ক্রেতারা নিবিঘ্নে কেনাবেচা করতে পারছে।