ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নৃশংসভাবে খুনের শিকার রতন মন্ডল হত্যা মামলা তুলে নিতে আসামিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাদীকে হত্যার হুমকি, ভয়ভীতি দেখানো ও সাক্ষীদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে আসামীদের বিরুদ্ধে। বাদীসহ স্বাক্ষীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছে।
জানা যায়, উপজেলার ত্রিবেণী ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামে সামাজিক দ্বন্দের জেরে প্রতিপক্ষরা হামলা করে রতন মন্ডল নামের এক ব্যাক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করে । চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় আওয়ামীলীগ কর্মী জাহাঙ্গীরসহ ২৬ জনের নামে নিহতের পিতা রায়হান মন্ডল বাদী হয়ে শৈলকুপা থানায় গত ১৭/৪/২০১৯ সালেএকটি হত্যা মামলা দায়ের করে যার মামলা নং ২০। মামলাটি ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। আসামীরা জামিনে মুক্ত হয়ে আসার পর থেকে হত্যা মামলাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছে। মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি, ভয়ভীতি ও চাপ দিয়ে আসছে এবং মামলার সাক্ষীদের একাধিকবার মারধর করে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আসামীরা আগামী ২৫ জুন স্বাক্ষীদের আদালতে স্বাক্ষী না দেওয়ার জন্য হুমকি দিয়েছে বলে মামলার বাদি অভিযোগ করেন।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার বাদীর ভাতিজা এসকেন্দার জানান, আমার চাচাত ভাইকে নৃশংসভাবে খুনের মামলায় বর্তমান আদালতে সাক্ষ্য গ্রহন চলছে। মামলা তুলে নিতে ও স্বাক্ষীদের শারিরীক জখমসহ ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। সেকেন্দার আলী ও দুলাল মন্ডল ওই মামলার স্বাক্ষী হওয়ায় কিছুদিন আগে তাদেরকে রক্তাক্ত জখম করে হাড় ভেঙ্গে দিয়েছে। আমি এ মামলার স্বাক্ষী হওয়ায় গত ১২ জুন আমাকেও শেখপাড়া বাজারে একা পেয়ে জাহাঙ্গীর ও সাইফুলের নেতৃত্বে ৮-১০ জন সন্ত্রাসী দিয়ে আমাকে মারধর করে জখম করা হয়।আমাদের জীবনের নিরাপত্তা সেইসাথে আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।
আসামী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি বর্তমান ঝিনাইদহ থাকি, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য না।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মান্নান বলেন , বাদী ও সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে বলে বাদী আমাকে জানিয়েছেন । আমি আসামীদের বলেছি এমন কাজ করা যাবে না। এর পরেও যদি তারা হুমকি দিতে থাকে তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলাটি বর্তমান আদালতে স্বাক্ষীর পর্যায়ে রয়েছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, স্বাক্ষীদের উপর মারপিট ও হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে মর্মে অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।