কালীগঞ্জে বেড়েছে ভূয়া ফেসবুক আইডির অপপ্রচার

এফএনএস (টিপু সুলতান, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ২২ জুন, ২০২৫, ০৪:০৬ পিএম
কালীগঞ্জে বেড়েছে ভূয়া ফেসবুক আইডির অপপ্রচার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ইন্টারনেটের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভূঁয়া (ফেইক) আইডি খুলে প্রতপক্ষকে ঘায়েল করতে অপপ্রচার করে সম্মানহানি করা হচ্ছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষের নামে মিথ্যা, গুজব ও ভিত্তিহীন কথা লিখে প্রচার করা হচ্ছে এসব আইডি থেকে। আইটি বিভাগের দূর্বলতার অযুহাতে আইনি সহায়তা চেয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

একাধিক সূত্র জানায়, এ উপজেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শক্ত অবস্থান ছাড়াও অনেকগুলো প্রচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন, ধর্মীয় পীরের ভক্তদের আলাদা মতামত, অনুসারী ও সনাতনীদের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বের কথাও শোনা যায়। এখানে বিভিন্ন সমাজিক সংগঠনও রয়েছে। অপরদিকে বিভিন্ন সংগঠনের অভ্যন্তরিন বিরোধের জের ধরে রয়েছে এক চাপা উত্তেজনা। এসব নিয়ন্ত্রন করছে স্থানীয় একাধিক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী চক্র। শুধু তাই নয়, তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ও মাদকের সয়লাবে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা। এখানে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ীক, সাংবাদিক ও সামাজিক প্রতিপক্ষ সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এই সব ভূয়া ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরিন কোন্দলে সৃষ্টি হয় দলের ভিতরে একাধিক গ্রুপ। বিভিন্ন দলের নেতাকমিদের নিয়ে আপত্তিকর পোষ্ট করে দলের ভিতরে দূরত্ব সৃষ্টি করছে এই কুচক্রি মহল। যার কারনে মারামারি ও সহিংসতার মতো ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।  

বিশাল আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে ভূয়া ফেসবুক আইডি এবং ওই সব আইডি দিয়ে মিথ্যা প্রপাগান্ডা। বেড়ে গেছে সামাজিক মাধ্যমের অপপ্রচার। প্রতিনিয়ত প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া আইডির আশ্রয় নিয়েছেন বলে অনেকের অভিযোগ। সূত্র আরোও জানায়, বৃহত্তর ঝিনাইদহ-৪ নির্বাচনী এলাকায় অধিকাংশ মানুষ অ্যান্ড্ররয়েড মোবাইল ফোনে ফেসবুক ব্যবহার করেন। তাদের মাধ্যে বেশির ভাগই বয়সে তরুণ। এসব তরুদের প্রত্যেকের একেকটি বৈধ আইডি রয়েছে। পাশাপাশি কিছু তরুনের রয়েছে ভুঁয়া আইডিও অভিভাবকের হাতে ধরা খাওয়ার ভয়ে কেউ কেউ ভুয়া আইডি খুলে ফেসবুকে রয়েছে তাদের অবাধ বিচরন। তবে বেশিরভাগ প্রতারনা ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার হচ্ছে বলে দাবী সচেতন মহলের। বিভিন্ন জনের রয়েছে বিভিন্ন রকম অসৎ উদ্দেশ্য। আবার কেউ এলাকার বাইরে থেকে রিয়েল আইডি ব্যবহার করেও বিভিন্ন জনের নামে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। এদের উদ্দেশ্যই থাকে ভুয়া আইডির মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা। বাদ যায়নি সন্ত্রাসীদের এ অপপ্রচারে অংশ গ্রহণ। এতে সম্মান হারাচ্ছেন অনেক সম্মানী লোক। তাদের টার্গেট থেকে বাদ যায়নি এলাকার ধনী শ্রেণি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, সুনামধন্য সম্মানী মানুষ ও সুশীল সমাজের সমাজপতিরা। সম্প্রতি নামে-বে-নামে এবং বিভিন্ন সেলিব্রেটিদের নামে ভূয়া আইডির নাম ভাঙ্গিয়ে ঝিনাইদহ-৪ নির্বাচনী এলাকার জনসাধারনের মানহানীসহ নানা হয়রানীর অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনায় পূর্বে অনেক ভুক্তভোগী থানায় সাধারন ডায়েরীও করেছেন কিন্তু প্রতিকার লক্ষনীয় নয়। প্রশাসন এসব ভুয়া ফেইসবুক আইডির বিরুদ্ধে তৎপর না হলে এবং ব্যবস্থা না নিলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এখন ভয়ঙ্কর ফাঁদের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে অপরাধীরা। ফেসবুকে ভুয়া তথ্য দিয়ে অনেকে মজা পেলেও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে মানসিক ভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ফেসবুকই একদিকে যেমন বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট করছে, তেমন একে ব্যবহার করে কেউ কেউ স্বার্থ হাসিল করছে। প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে ফেসবুককে। প্রায়ই শোনা যায়, ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম করে এক সময় বন্ধুরূপী প্রতারকের খপ্পরে পড়ে অনেককে হারাতে হয়েছে ইজ্জত। প্রায়ই সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানা যায় শুধু ইজ্জত খুইয়েই শেষ হয়নি, প্রাণ পর্যন্ত চলে যাওয়ার ঘটনাও শোনা যায় মাঝেমধ্যে। আবার ফেসবুককে ব্যবহার করে বহু পরিবারকে করা হয়েছে ছন্নছাড়া। বিজ্ঞানের আবিষ্কারকে ব্যবহার করে প্রেমিকার সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির কথা শোনা যায় হর হামেশায়। আবার ফেইক আইডি খুলে সম্মানি লোকের সম্মানহানি করা হচ্ছে অবলীলায়।ফেক আইডিগুলোর অধিকাংশে প্রোফাইলের ছবিতেই সুন্দরী নারী অথবা হ্যান্ডসাম পুরুষের ছবি দেওয়া থাকে আবার কোন আইডিতে ছবিও থাকেনা। এক্ষেত্রে ছবিটি গুগল ইমেজে সার্চ দিলে একাধিক ব্যবহারের প্রমাণ মিলে। তাছাড়া ভুয়া পরিচয়ে ও ছবি দিয়ে মোবাইল সিম বিক্রি হওয়াতে এ ফেক আইডির সংখ্যা বাড়ছে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। এ সব ফেক আইডি ব্যবহার করে সামাজিক জীবনে দূর্বিসহ ও শঙ্কিত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবী।ঝিনাইদহ-৪ নির্বাচনী এলাকার অনেক জনপ্রতনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একটি চক্র নামিদামি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের নামে ফেসবুকের ভুয়া আইডি ব্যবহার করে নানা রকম অপরাধমূলক অপপ্রচার চালিয়ে হয়রানী করছে। অবিলম্বে দেশের বিটিআরসি কর্তৃপক্ষকে তাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ ওসি তদন্ত মোফাজ্জেল হক বলেন, এসব ভূয়া বা ফেক ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে আইসিটি বিভাগ তৎপর রয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে অনেক গুলো ভুয়া ফেসবুক পেজ ও আইডি শনাক্তও করেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব ভূয়া ফেসবুক আইডি হোল্ডাররা অনেকে জেলও খাটছেন, আবার অনেকের নামে খুলনা সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা চলমানও আছে। তবে বর্তমানে কালীগঞ্জের এ অবস্থা ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। প্রশাসন এসব ভুয়া আইডি সনাক্ত করে আইডিগুলো বন্ধ এবং জড়িতদের ধরে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের আইসিটি শাখা তৎপর রয়েছে। ।

ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা বিভাগের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল ইসলাম বলেন, যখন কোন আইডি থেকে বাজে কমেন্ট করা হয় তখনই সে আইডিগুলো আমাদের নজরদারীতে চলে আসে। আমাদের গোয়ান্দা পুলিশ (ডিবি) ও সাইবার টিম সার্বক্ষনিক এই সব আইডি থেকে কি পোষ্ট করছে, কোন ব্যক্তি বা রাষ্ট্র বিরোধী কোন পোষ্ট অথবা কমেন্ট করছে সে বিষয়ে কন্টিনিউ নজর রাখছেন। আইটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি প্রভাবশালী মহল ফেসবুকে ভুঁয়া আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত আছে। পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা, সম্মানি ব্যক্তিদের সম্মান হানি করতে  নানা কাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাইবার অপরাধ বেড়েই চলছে। আমরা তাঁদের ব্যবহারিত ভুঁয়া ফেসবুক আইডি নজরদারিতে রাখছি। শুধু ফেক আইডিই নয় রিয়েল আইডি দিয়ে কেউ কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের নামে সম্মানহানিকর বা আপত্তিকর পোষ্ট  করে তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে