মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বৈরী আবহাওয়ায় গ্রাম গঞ্জে ঘুরতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে বেদে সম্প্রদায়। সরেজমিনে গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের তেতৈতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা ব্রিজের নিচে বৈরী আবহাওয়া প্রতিকূলে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু বানিয়ে বসবাস করছে। আয় না থাকায় মানবিক জীবন যাপন করছে তারা।
জানা যায়, চলতি বছর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে রংপুর, নোয়াখালী ও জেলার লৌহজং উপজেলা থেকে ২শত বেদে পরিবার এসে মেঘনা ব্রিজের নিচে তাবু বানিয়ে অস্থায়ী ভাবে বসবাস করছে। তাদের প্রধান পেশা মূলত সাপ ধরা ও সাপের খেলা। তবে তারা এখন সাপের খেলা দেখায় না। সাপের খেলা দেখানোর পরিবর্তিতে গ্রামে গ্রামে ঘুরে দাঁতের পোকা বের করানো, সিংয়া বিশ বের করা, মাছের হাঁড় বিক্রি ও তাবিজ কবোজ সহ বাথ ব্যথার তাবিজ বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে বেঁচে থাকে তারা। তবে এখনকার যুগে মানুষ আর আগের মতো,দাতের পোকা বের করাসহ ঝাঁড় ফুক ও তাবিজ কোবজের প্রতি মানুষের বিশ্বাস উঠে গেছে। তার পরেও তারা বাপ দাদার পেশা যুগের পর যুগ ধরে আছে।
জনি মিয়া নামের এক বেদে জানান, বাপ দাদার পেশা ধরে রেখেছি। আমরা শুধু এখানেই নই, দেশের নানা প্রান্তে এভাবেই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করি। কিন্তু কয়দিনের বৃষ্টিতে আমরা গ্রামগঞ্জে ঘুরতে পারতেছি না। আমাদের আয় কমে গেছে। পরিবার নিয়ে কষ্ট দিনপাত করছি। আমাদের কেউ খোঁজ রাখেনা।
বেদে সম্প্রদায়ের সদ্দার বাদল মিয়া জানান, আমাদের মতো শত শত গরীব অসহায় বেদে পরিবার বেঁচে থাকার তাগিতে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় গিয়ে এই পেশায় নিয়জিত। সরকার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিলেও বেদে সম্প্রদায়ের পরিবাররা এই সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে দু-মঠো খাবারের জন্য ঘুরে ঘুরে জীবন বাঁচার জন্য লড়াই সংগ্রাম করছি।
সন্তানদেরও এই পেশায় আনবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, কি করবো আমাদের দেশের বাড়িতে নিজেদের কোন জায়গা জমি নেই, নিদিষ্ট জায়গা না থাকলে সন্তানদের পড়াবো কিভাবে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি আমাদের যদি কোন ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে সন্তানদের আমরা লেখাপড়া করাতে পারবো। আমরা চাই না আমাদের মতো আমাদের সন্তানরা এই পেশায় আসুক।