পুঠিয়ায় ইউএনও অতিরিক্ত তিনটি দায়িত্বে থাকায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

কে এম রেজা; পুঠিয়া, রাজশাহী | প্রকাশ: ২ জুলাই, ২০২৫, ০৬:৩৪ পিএম
পুঠিয়ায় ইউএনও অতিরিক্ত তিনটি দায়িত্বে থাকায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
রাজশাহী পুঠিয়ায় এসিল্যান্ড,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌর প্রশাসকের তিন পদের অস্থায়ী দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তাই উপজেলা জুড়ে সরকারি সেবা মূলক কার্যক্রমে ব্যাপক বাধা গ্রস্থ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে,পুঠিয়া উপজেলা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ও রাজশাহী জেলার বাণিজ্যিক এলাকা এবং পর্যটন নগরী হওয়ার কারণে জেলার ভেতরে এই উপজেলাটির গুরুত্ব অনেক বেশি। ফ্যাসিবাদ সরকার পতনের পর স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিত্ব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ,পৌর মেয়রের পরিবর্তে অস্থায়ী দায়িত্ব পালন করছেন বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারা। এর ধারাবাহিকতায় পুঠিয়া পৌরসভায় ১৯ আগষ্ট ২০২৪ইং হতে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) দেবাশীষ বসাক দায়িত্ব পালন শুরু করেন। সে বদলিজনিত কারণে ২৯ এপ্রিল ২০২৫ইং পর্যন্ত দায়িত্ব ছিলেন। পরবর্তী সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম নুর হোসেন নির্ঝর ৩০ এপ্রিল ২০২৫ইং হতে পৌর প্রশাসক এবং এসিল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সরকার পতনের পর হতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অস্থায়ী দায়িত্ব পালন করছেন ইউএনও। শহিদুল ইসলাম নামের ব্যক্তি বলেন, ইউএনওকে উপজেলার সবরকম দায়িত্ব পালন করতে হয়। এমনিতেই এ কর্মকর্তাদের কাজের চাপের ভেতর থাকতে হয়। তারপর,অন্য উপজেলার চেয়ে এই উপজেলার ইউএনওরকে অতিরিক্ত অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এর ভেতরে আবার সরকারের অতিগুরুত্বপূর্ণ দুইটি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) না থাকায় (মিসকেস) জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করণের সেবা মূলক কাজগুলি একেবারে হচ্ছে না। আঃ লতিফ সরকার নামের ব্যক্তি বলেন, পালোপাড়া মৌজার ২০২ খতিয়ানের জমির জন্য আমাকে কয়েকবার মিসকেসের জন্য এসিল্যান্ড অফিস হতে তারিখ দিয়েছেন। তারিখ দেওয়ার পর ওই দিন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকতে পারেন না। কিন্তু অদ্যবধি জমির কাগজপত্র অফিস সমাধান করে দেয়নি। এসিল্যান্ড নেই মিসকেসের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কিন্তু জমির নামজারি করা হচ্ছে তবে অর্থের বিনিময়ে। আমার মতো একাধিক ব্যক্তি জমির সমস্যা নিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। লতিফের মতো উপজেলা জুড়ে সরকারি সেবা মূলক কার্যক্রম গুলোতে ব্যাপক বাধা গ্রস্থ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শিহাব হোসেন নামের পৌরবাসী বলেন, ইউএনও মহোদয় পৌরসভায় এবং ভূমি অফিসে বেশি সময় না দেওয়ার কারণে কর্মচারীরা নানা অজুহাত দেখায়ে সেবার কাজগুলি বিলম্বিত করে হয়রানি করছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম নুর হোসেন নির্ঝর বলেন,আমার ব্যস্ততার জন্য মিসকেসগুলো সমাধান করা যাচ্ছে না। তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী জমির নামজারি এবং জমির কর আদায় সঠিকভাবে আদায় করা হচ্ছে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে