ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রাইমারি স্কুল গুলোতে প্রতিরাতেই চুরির ঘটনা ঘটছে। পাঠ্দানে সহায়ক বিদ্যালয়ে থাকা ইলেকট্রিক পণ্যের পাশাপাশি নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ জিনিস তৈরি হয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত চুরির ঘটনা গুলোর একটিরও কোনো সূরাহা হয়নি। যে কারণে থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। একই সাথে চরম শঙ্কার মধ্যে রয়েছে উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো। চোর চক্রের প্রাইমারি স্কুল গুলোতে ধারাবাহিক চুরির অংশ হিসেবে এবার বারবাজার ইউনিয়নের বাদুরগাছা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কক্ষের লোহার জানালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস চুরি করে নিয়ে যায় তারা।
বুধবার মধ্যরাতে চুরির এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক শারমিন আক্তার জানান,সকালে আমি বিদ্যালয়ে এসে দেখি শিক্ষকদের কক্ষের জানালার গ্রিল ভাঙা। পরবর্তীতে দেখি, আলমারি খোলা এবং সেখানে থাকা সব মালামাল এলোমেলো ভাবে নিচেয় পড়ে আছে। পরে লক্ষ করি, স্কুলে ব্যবহার করা প্রিন্টার, পিতলের ঘন্টা, এবং ব্যাটারি চার্জার মেশিন চোর চক্রের সদস্যরা চুরি করে নিয়ে গেছে। ল্যাপটপটি আমি সাথে করে নিয়ে যাই বিধায় এ যাত্রায় চোরের হাত থেকে রক্ষা পেল। চুরির এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায়একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে যাবেন বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে মহিষাহাটী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মার্চ মাসে উপজেলার খড়কিডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মে মাসে শশসারপাড়া ভিটেখোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রিন্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল চুরি হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুর রহমান জানান, একের পর এক প্রাথমিক বিদ্যালয় চুরির ঘটনা ঘটছে। আর এসব ঘটনায় থানা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যালয় সমুহের শিক্ষা উপকরণ সব চুরি গয়ে যাবে। যার প্রভাব পাঠদান কার্যক্রমে পড়বে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম (ওসি) জানান, চুরির ঘটনাটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আমাকে জারিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা।