ভূমি মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ

সরকারি খাল উন্মুক্তকারী শ্রমিকের উপর দূর্বৃত্তদের হামলা

এফএনএস (মহানন্দ অধিকারী মিন্টু; পাইকগাছা, খুলনা) : | প্রকাশ: ৫ জুলাই, ২০২৫, ০৭:২৩ পিএম
সরকারি খাল উন্মুক্তকারী শ্রমিকের উপর দূর্বৃত্তদের হামলা

খুলনার পাইকগাছায় বহুলালোচিত নাছিরপুর সরকারি (খাস) খাল উন্মুক্ত করতে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়োগ করা শ্রমিককে তার বাড়ি সীমান্ত গ্রাম তালার ঘোষনগরে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা হাতুড়ি দিয়ে মাথা ফাঁটিয়ে দিয়েছে। এসময় গ্রামবাসীরা ধাওয়ায় দুর্বৃত্তদের মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত শ্রমিক মুন্না সানা (২৩)কে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর দুর্বৃত্তরা দ্বিতীয় দফায় তালা হাসপাতালে যেয়ে ঐ শ্রমিক ও তার স্বজনদের উপর হামলা করে। এসময় অন্যান্য রোগীর স্বজনরা তাদের প্রতিরোধ করে। দুর্বৃত্তরা শ্রমিকের বাড়ি ঘোষনগর থেকে তাদের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। আহত শ্রমিক মুন্না ঘোষনগর গ্রামের মাওলা সানার ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দুপুর পৌনে ২ টার দিকে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্ততি চলছে। অূমি মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে বুধবার (২জুলাই) পাইকগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ইফতেখারুল আলম শামীমের নেতৃত্বে সেনাতত্ত্বাবধায়নে নাছিরপুর সরকারি প্রায় ১০কিঃমিঃ খাস খালের বিভিন্ন স্থানেব নেট-পাটা অপসারণ পূর্বক উন্মুক্ত কার্যক্রম শুরু করে। পরের দিন ৩জুলাই সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের ন্যায় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে স্থানীয় ইউএলও কৃষ্ণপদ দাশের নের্তৃত্বে শ্রমিকসহ এলাকাবাসী খালের হাউলী ব্রিজের কাছে নেটপাটা অপসারণ কার্যক্রম শেষ করে খালের গোড়ার অংশ তালতলা এলাকায় যায়। শ্রমিকরা সেখানে পৌছে কাজ শুরু করার আগেই খালের দখলদারের পক্ষে নিযুক্ত সশস্ত্র রাসেল, রাতুল, হারুন, রায়হান, ইয়ামিন, নাজমুলগংদের প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। এরপর তারা সেখানে কোনো প্রকার কাজ না করেই বাড়িতে ফিরে যায়। পরে ঐদিন দুপুর পৌনে ২ টার দিকে কাশিমনগর গ্রামের আজহারুল ইসলাম আজর গাজীর ছেলেরা সেল গাজীর নেতৃত্বে তার ভগ্নিপতি শামছুর গাজীর ছেলে হারুন গাজী ও তার ছেলেরা তুল গাজী, আব্বাস মোড়লের ছেলে ইয়ামিন মোড়ল, আব্দুল মজিদ গাজীর ছেলে ফরহাদ গাজী, মজিদ সানার ছেলে রায়হান সানাসহ ৭-৮ জন যুবক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার যোগে শ্রমিক মুন্না সানার বাড়িতে হানা দিয়ে লোহার রড, চাপাতি ও হাতুড়িসহ ঝাপিয়ে পড়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। এসময় মুন্নার মা সুজাতা বেগম ছাড়া বাড়িতে কোনো লোক না থাকায় তাদের আত্নচিৎকারে গ্রামবাসীরা এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরপর মুন্নাকে তালা হাসপাতালে নিলে সশস্ত্র র্দুবৃত্তরা সেখানে গিয়ে তার ও তার স্বজনদের উপর হামলা করে। এ ঘটনায় মুন্না চিকিৎসাধীন থাকায় প্রাথমিকভাবে ঘটনার দিন তালা থানায় একটি অভিযোগ হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রসঙ্গত, গত ২৫জুন ভূমি মন্ত্রনালয়ের উপসচিব রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৪৩২-৩৭ বঙ্গাব্দ মেয়াদে নাছিরপুর খাল (বদ্ধ) জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত এক পত্রে জানানো হয়, গত ১৬ জুন সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির ৮৫তম সভায় জলমহাল ব্যবস্থাপনানীতি  মোতাবেক জলমহালটি আপাতত উন্মুক্ত রাখতে সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে মহামান্য আদালত কর্তৃক রায় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্পে ইজারার দাখিলকৃত তালতলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিলি: যার (অনলাইন আবেদন নং-২২৬৯১), নগরশ্রীরামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিলি: যার (অনলাইন আবেদন নং-২২৭৭৪) ও নাছিরপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিলি: যার (অনলাইন আবেদন নং-২২৬৬২) পাইকগাছা, খুলনার আবেদন সমূহ বিবেচনা করার সুযোগ নেই মর্ম্মে নামঞ্জুরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যার স্মারক নং-৩১.০০.০০০০.০৫০.৬৮.০১৪.২৫. ৪৩৬। এরপর গত মঙ্গলবার (১জুলাই) ভূমি মন্ত্রনালয়ের চিঠি প্রাপ্তি সাপেক্ষে জেলা প্রশাসকের নির্দেশ ক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জলমহাল এলাকায় খালটি উন্মুক্ত করণে মাইকিং করেন। এছাড়া এদিন আগের টেন্ডারে অংশ গ্রহণকারী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ডেকে বিষয়টি অবহিত ও নিজ দায়িত্বে খালের নেটপাটা অপসারণের জন্য অনুরোধ করেন। পরের দিন বুধবার (২জুলাই) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল আলম শামীম স্থানীয় ইউএলও কৃষ্ণপদ দাশকে সাথে নিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় কপিলমুনি ফাঁড়ি পুলিশের সমন্বয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেটপাটা অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) খালের দখলকারীদের পক্ষে নিয়োজি দুর্বৃত্তদের প্রতিরোধ ও হামলার শিকার হয় নিয়োজিত শ্রমিকরা। এব্যাপারে স্থানীয় কপিলমুনি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ দাশ বলেন, তাদের একজন লেবারের বাড়িতে গিয়ে হামলার খবর তিনি শোনামাত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। রবিবার অফিসে ফিরে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এব্যাপারে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক আজগর হোসেন বলেন, তিনি ঐ দিন খুলনায় ছিলেন। প্রথমত খাল এলাকায় হাতাহাতি ও পরে তালা সীমানায় সংঘর্ষের খবর শুনেছেন। তবে বিষয়টি তালা থানা এলাকার বিধায় পাইকগাছা থানায় এনিয়ে কোনো মামলা বা অভিযোগের বিষয় তার জানা নেই। তবে শনিবার (৫ জুলাই) দুপুরে তিনি এএসপি (সার্কেল) পাইকগাছাসহ খাল এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন এবং বর্তমানে সেখানে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য গত বছর ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর নাছিরপুর সরকারি খালটি স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ডাবলুর কর্তৃক দখল-বেদখলের ঘটনা ঘটে। এনিয়ে থানায় একাধিক মামলা-পাল্টা মামলার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ খালটির ইজারা প্রদানে টেন্ডার আহ্বান করলে ৩টি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির পক্ষের টেন্ডার ড্রপ হয়। খালটির দখল বজায় রেখে তারা ইজারা কার্যক্রমে অংশ নেয়। এদিকে খালটির ইজারা নিয়ে খন্ড খন্ড করে নেটপাটা দিয়ে মাছ চাষ করায় সেখানকার অন্তত ৬টি মৌজার ২০ গ্রামসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশংকায় খালটি জনগণের স্বার্থে উন্মুক্তর জন্য আন্দোলন শুরু হয়। সর্বশেষ ভূমি মন্ত্রনালয় জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে গত ১৬ জুন সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির ৮৫তম সভায় জলমহাল ব্যবস্থাপনানীতি মোতাবেক জলমহালটি আপাতত উন্মুক্ত রাখতে সিদ্ধান্ত ও তা বাস্তবায়নে সর্বশেষ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে