“পরিবর্তনের স্বপ্নে ধাক্কা খেলাম”—জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে নুরুল হক নুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ৮ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:৩১ পিএম | প্রকাশ: ৮ আগস্ট, ২০২৫, ০৯:০৪ পিএম
“পরিবর্তনের স্বপ্নে ধাক্কা খেলাম”—জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে নুরুল হক নুর

রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি গভীর আস্থার জায়গা থেকে বড় ধাক্কা খাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তাঁর মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় যে পরিবর্তনের স্বপ্ন লালিত হয়েছিল, তা ঘোষণাপত্রে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বরং সেখানে কিছু রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষায় সেকেলে ও গতানুগতিক বিষয় সংযোজন করা হয়েছে, যা আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপটকে আড়াল করেছে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দ্রুত বিচার সম্পন্ন, মৌলিক সংস্কার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে অগ্নিসেনা সোশ্যাল ফাউন্ডেশন এবং আমাদের নতুন বাংলাদেশ।

নুর বলেন, “যে সিস্টেমের কারণে আওয়ামী লীগের মতো দল তৈরি হয়েছে, শেখ হাসিনার মতো সাইকোপ্যাথ তৈরি হয়েছে, সেই সিস্টেমকে টিকিয়ে রেখে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের গঠন কাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কার না হলে আবারও পুরনো শাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।”

তিনি স্পষ্ট করে দেন, আওয়ামী লীগকে প্রশাসন ও রাজনীতির জায়গায় পুনর্বাসন করে যদি কেউ ভাবে তারা সহানুভূতি পাবে বা সহযোগিতা মিলবে, সেটি হবে মারাত্মক ভুল। তাঁর ভাষায়, “আওয়ামী লীগকে নিয়ে রাজনীতি করতে হবে? দেশে কি লোকের অভাব পড়েছে?”

নুর বলেন, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার শুধু দাবি নয়, একটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রে গুম, খুন, নির্যাতনের ১৬ বছরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়নি। বরং কিছু দলের সুবিধামতো ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হয়েছে, যা জনগণের মনে হতাশা সৃষ্টি করেছে।

নিজেদের দায় এড়িয়ে গিয়ে কেবল অন্যদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোও সমাধান নয় বলে মত দেন তিনি। বলেন, “আমরা পরিবর্তন চাই, কিন্তু নিজেদেরও পরিবর্তিত হতে হবে। একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলো, চারপাশে মানুষ থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি—এটা কেবল ভয় নয়, সমাজিক দৈন্যেরও প্রকাশ।”

আলোচনা সভায় নুর বারবারই ক্ষমতার রাজনীতির বদলে আদর্শিক ও জনমুখী রাজনীতির আহ্বান জানান। বলেন, “আন্দোলনের চেতনা যেন ক্ষমতা দখলের পণ্যে পরিণত না হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা এনেছে, যেখানে রাষ্ট্র সংস্কার ও ন্যায়বিচারকে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের প্রধান ভিত্তি হিসেবে সামনে আনছেন তরুণ নেতৃত্ব।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে