খুলনার গল্লামারীতে সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের কার্যালয় দখল করে ‘শহীদ মীর মুগ্ধ হল’ ঘোষণা করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা মিছিল সহকারে মৎস্য বীজ খামারের কার্যালয়ে যান। সেখানে সমাবেশ শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১০ মিনিটের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বের হয়ে যেতে বলেন তারা।
পরে কর্মকর্তারা চলে গেলে শিক্ষার্থীরা মূল ভবনে ‘শহীদ মীর মুগ্ধ হল’ লেখা ব্যানার টাঙিয়ে দেন এবং “দাবি নয়, অধিকার—মৎস্য ভবন দরকার”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা বিকেল ২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
বিষয়টি স্বীকার করেছেন মৎস্য খামারের ব্যবস্থাপক মোঃ মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, চারশ’ থেকে পাঁচশ’ শিক্ষার্থী জোরপূর্বক তার অফিসে প্রবেশ করে ১০ মিনিটের মধ্যে সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের বের হয়ে যেতে বলেন। এ সময় তারা বের হতে না চাইলে জোর করে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। এ কারণে তারা বের হয়ে যান। বিষয়টি তিনি জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন।
খুবি শিক্ষার্থীদের সূত্র জানায়, খুবি সীমানার ভেতরে অবস্থিত ১০.৩৫ একর আয়তনের সরকারি এ খামারটি আবাসন সংকট নিরসন, গবেষণাগার সম্প্রসারণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে আছে। বর্তমানে খুবির শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭ হাজারের বেশি হলেও হল রয়েছে মাত্র পাঁচটি। ফলে মাত্র ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন। জীববিজ্ঞানভিত্তিক ডিসিপ্লিনগুলোর মাঠ গবেষণার ক্ষেত্রেও জমির অভাব তীব্র সমস্যা তৈরি করছে।
মৎস্য খামারের সূত্রে জানা গেছে, সেখানে মৎস্য খামারের আওতায় ১৬ জন কর্মকর্তা কর্মচারী এবং সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজসহ দুটি প্রকল্পে আরও ১০ জনসহ মোট ২৬ জন কর্মরত রয়েছেন। তারা বর্তমানে অফিসের বাইরে অবস্থান করছেন। সেখানে চার তলা বিশিষ্ট অফিস ভবন পুরোটাই দখল করে নেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয়ে সরকারি অফিসটি দখল করা হয়েছে। এ বিষয়টি মৌখিক এবং লিখিতভাবে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অবহিত করা হয়েছে। আপাতত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসের বাইরে অবস্থান করছেন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা কথা বলতে রাজি হননি। তবে কথা বলার জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডঃ মোঃ রেজাউল করিমকে ফোন করা হলে তিনিও রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষার্থীরা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেন এবং মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে জমি হস্তান্তরের অনুরোধ জানায়। চলতি বছরের মার্চে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে সমাধানের আশ্বাস দিলেও এখনও বিষয়টি ঝুলে আছে।