মোহনপুরে হিমাগারে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ২

এম এম মামুন; রাজশাহী | প্রকাশ: ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ০২:৪৬ পিএম
মোহনপুরে হিমাগারে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ২
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় দেশ কোল্ড স্টোরেজে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। বুধবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১২ টায় এক প্রেস ব্রিফিং এ এসব তথ্য জানায় সিআইডি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার আশুলিয়া ও গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে ডাকাত দলের সদস্য সাজেদুল শেখ ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করে।সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এএএম হুমায়ুন কবীর জানান, গত ৭ আগষ্ট রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় দেশ কোল্ড স্টোরেজে শ্রমিকদের হাত পা বেধেঁ ৬৬ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, তামার তার ও নগদ প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এঘটনায় মামলা দায়েরের পর সিআইডি তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় দুই জনকে গ্রেফতার করে।তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া যন্ত্রপাতি, বিভিন্ন ধরনের রেঞ্জ, হাতুড়ি, প্লাস এবং ডাকাতির সময় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তাদের আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ডে চাওয়া হবে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, সিরাজগঞ্জ সদর থানার পিপুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত মফজেল শেখের ছেলে সাজেদুল শেখ (৩৫), শাহজাদপুর থানার বিনোটিয়া গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে মো: রুবেল (১৯)। গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সিআইডি পুলিশ সুপার জানান, সিরাজগঞ্জের বেলকুচির বাবা ও ছেলে সাদেক ও হাসান বর্তমানে ঢাকায় থেকে এই ডাকাত দল পরিচালনা করেন। তাদের নেতৃত্বে অন্তত ৫০ জনের একটি দল ট্রাক নিয়ে সারাদেশের কলকারখানা থেকে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, তামার তার ডাকাতি করে। এই দলেরই ১৪ জন রাজশাহী দেশ কোল্ড স্টোরেজে ডাকাতিতে অংশ নিয়েছিল। বাকীদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে। তিনি আরো জানান, রাজশাহীতে অংশ নেয়া ডাকাত দলের ৮ সদস্য নাটোর চিনিকলে ডাকাতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল৷ এই গ্রুপটি রংপুর চিনি কলে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হুমায়ুন কবীর জানান, এই ডাকাত চক্রের সদস্যদের অধিকাংশ সিরাজগঞ্জে। তারা ঢাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। এই চক্রের দুজন সারা দেশে ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে দলের প্রধান বাবা ও ছেলো ডাকাতির স্থান নির্ধারণ করে জানিয়ে দেয়। একটা ডাকাতির ঘটনায় ১০ থেকে ১৫ জন অংশ নেন। এর বিনিময়ে প্র্যতেকে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পায়। সিআইডি জানিয়েছে, ডাকাতির জন্য তারা দুটি নম্বরবিহীন পিকাপ ভ্যান ব্যবহার করে। একটা মোবাইল ও সিম একবার ব্যবহার করে ফেলে দেয়। এই দলের সদস্যদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।