কর্মবিরতিতে শেবামেকের চিকিৎসকেরা

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৮ আগস্ট, ২০২৫, ০২:৪৯ পিএম
কর্মবিরতিতে শেবামেকের চিকিৎসকেরা

চিকিৎসকের ওপর হামলা ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা না থাকায় রবিবার (১৭ আগস্ট) বিকেল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে রয়েছেন বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইর্ন্টান চিকিৎসকরা। রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে  ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে গত ১৪ আগস্ট তারা কর্মবিরতিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল পরিচালকের অনুরোধ ও রোগীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়।

ওইসময় পরিচালককে ৪৮ ঘণ্টার সময় দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু ১৭ আগস্ট আবার আন্দোলনের নামে কিছু দুষ্কৃতকারী মেডিসিন বিভাগের ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার ডা. দিলীপ রায়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এছাড়া হাসপাতালের স্টাফদের ওপর হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি হাসপাতাল ভবনকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে পুরো হাসপাতালে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে উসকানিদাতা এবং জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় ১৭ আগস্ট বিকেল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন।

মিড লেভেল ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. শাখাওয়াত হোসেন সৈকত বলেন, কর্মস্থলে নিরাপত্তা না থাকায় ওই ঘটনার পর থেকেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন চিকিৎসকরা।

ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তবে হাসপাতাল পরিচালকের বিশেষ অনুরোধে ও পুলিশের করা নিরাপত্তায় এবং মুমূর্ষু রোগীদের স্বার্থে আমরা মিড লেভেল চিকিৎসকরা বিকেল পাঁচটার পর থেকে শুধুমাত্র জরুরি সেবা চালিয়ে যাচ্ছি। অপরদিকে দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা চিকিৎসা বঞ্চিত হয় রোগীরা। জরুরি বিভাগ থেকে ভর্তি হয়ে ওয়ার্ডে এসে চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পরেন।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, চিকিৎসককে মারধর করায় দুপুর দুইটার পর ভয়ে চিকিৎসকেরা কর্মস্থল ত্যাগ করেন। 

চিকিৎসা না পেয়ে রোগী ও স্বজনরা কান্না শুরু করেন। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের অনুরোধ জানিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় তাদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের দিয়ে আপাতত জরুরি সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।   

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে