জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। বৈশ্বিক এই সম্মেলনে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন। পাশাপাশি তিনি ইউএনজিএ-তে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করবেন।
সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সাধারণ বিতর্ক চলবে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এবং সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত। এ সময়ে বিশ্ব নেতারা নিজেদের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন জটিল ও আন্তঃসম্পর্কিত বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এ অধিবেশনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “আশি বছর আগে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে মানবতা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে শান্তির বীজ বপন করেছিল। এক সনদ, এক দৃষ্টি, এক অঙ্গীকার—মানবতা ঐক্যবদ্ধ হলে শান্তি সম্ভব।”
৮০তম অধিবেশনের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন “বেটার টুগেদার” শীর্ষক মূল প্রতিপাদ্যে। তিনি ঐক্য, সংহতি ও যৌথ পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বছর অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য হলো—‘একসঙ্গে আরও ভালো: শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকারের জন্য আশি বছর ও তার পরেও’।
জাতিসংঘের এই অধিবেশনকে কেন্দ্র করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জরুরি প্রয়োজনীয়তা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানাবেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এ অধিবেশনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করেছে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে গত আট দশকের সাফল্য ও আগামী দিনের করণীয় তুলে ধরবেন বিশ্বনেতারা। একই দিন ফ্রান্স ও সৌদি আরবের সহসভাপনায় ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দুই-রাষ্ট্র সমাধানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হবে।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ মহাসচিব জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজন করবেন। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য কপ–৩০ এর আগে এই সম্মেলনে বিশ্ব নেতারা নতুন জাতীয় জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করবেন এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সুযোগ গ্রহণে প্রতিশ্রুতি দেবেন।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমারের রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন। এই বৈঠকে মিয়ানমারের বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য সময়সীমাবদ্ধ পরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হবে।