টঙ্গীতে কেমিক্যাল গোডাউন বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ফায়ার ফাইটারের

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৬:১২ পিএম
টঙ্গীতে কেমিক্যাল গোডাউন বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ফায়ার ফাইটারের

গাজীপুরের টঙ্গীতে অনুমোদনহীন কেমিক্যাল গোডাউনে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ফায়ার সার্ভিসের লিডার শামীম আহমেদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তিনি মৃত্যুবরণ করেন। চিকিৎসকরা জানান, শরীরের শতভাগ দগ্ধ হওয়ায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল।

শামীম আহমেদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পিজাহাতী গ্রামে। তিনি স্ত্রী মনি আক্তার ও তিন সন্তান নিয়ে টঙ্গীতে বসবাস করছিলেন। প্রায় ২০ বছর ধরে ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত শামীম সম্প্রতি লিডার পদে পদোন্নতি পান।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শামীমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ড ও উদ্ধার অভিযানে প্রাণ দেওয়া ফায়ার ফাইটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪৯ জনে। ১৯৬৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ৪৯ জন সাহসী সদস্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

এর আগে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টঙ্গী রেলস্টেশন রোড সংলগ্ন সাহারা মার্কেট এলাকার ফেমাস কেমিক্যালস লিমিটেড নামের একটি টিনশেড সেমিপাকা গোডাউনে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের অন্তত সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুন নেভানোর সময় ভেতরে মজুত থাকা কেমিক্যাল ড্রাম বিস্ফোরিত হলে চারজন ফায়ার ফাইটার এবং স্থানীয় কয়েকজন গুরুতর দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামাল জানান, দগ্ধদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় অনুমোদনহীন কেমিক্যাল গোডাউন বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুর জেলার উপপরিচালক মো. আরেফিন বাদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, ফেমাস কেমিক্যালস লিমিটেডের কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র বা ফায়ার লাইসেন্স ছিল না। ঘটনার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইসমাইল হোসেন পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় কেমিক্যালের গন্ধ ও ঝুঁকির বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দোকান হারানো ব্যবসায়ী, আতঙ্কে থাকা বাসিন্দা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করা সহকর্মীরা সবাই একই প্রশ্ন তুলছেন—এ ধরনের অনুমোদনহীন বিপজ্জনক গোডাউন কেন চলতে দেওয়া হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে