সারিয়াকান্দিতে খারিজ, মিউটেশন বা নামজারী ছাড়াই জমি দলিলের হিড়িক পরেছে। ফুলবাড়ি মৌজার ২৯১৩ দাগ ২২ শতাংশ দলিল নং২৩৮৫ , একই মৌজার ১৮৬৫,১৮৬৪ দাগে ১২ শতাংশ, দলিল নং ১৪০১ এর ১৮৭৩ দাগে সাড়ে ২৭ শতাংশ জমি খারিজ ছাড়াই এরই মধ্য এরই মধ্য দলিল হয়েছে। খারিজ না করায় অংশীদারিত্ব নিয়ে হল মামলা মোক্দ্দমাও দৃশ্যমান । অন্তত দেড় বছর ধরে এই ধরনের দলিল সম্পাদন দেদার চলছে।
জানা গেছে,এক শ্রেণীর দলিল লেখকদের অপতৎপরতায় ক্রেতা ও বিক্রেতারা জমি খারিজে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। তারা বলছেন,এখন করে লাভ নেই,করলেও পুণরায় কয়েক মাস পরেই খারিজ করতে হবে। অন্যদিকে খারিজ বা মিউটেশন করতে ভূমি অফিসের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা -কর্মচারীদের কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হবেই। অতএব আমাদের কাছে আসা মাত্রই জমির দলিল করে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।
এই উপজেলায় সপ্তাহে বুধবার ও বৃহস্পতিবার জমি দলিল হয়। দিনে গড়ে ৭০ টি দলিল হয়ে থাকে। সাব -রেজিস্ট্রি অফিসের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্র জানায়, তারমধ্য কমপক্ষে ৪৫টি দলিল হয়ে থাকে খারিজ ছাড়া। প্রতি দলিলে উপরন্ত খরচ বাবদ ক্রেতা - বিক্রেতার নিকট কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়ে থাকে। জমির পরিমাণ অর্ধ শতক থেকে পাঁচ বিঘার খরচা একই।
দলিল লেখক আব্দুল মান্নান বলেন, আমাদের তো বেতন- ভাতা নেই। তাছাড়া দলিল হবে যত, সরকার স্ট্যাম্পে রাজস্ব পায় তত। খারিজে মাত্র কয়েক টাকা রাজস্ব পায় ?এছাড়াও খরচা বাবদ নেওয়া টাকা রেশিও অনুপাতে জেলা থেকে শুরু করে আগারগাঁ অফিসে পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।
ফুলবাড়ী ইউনিয়ন উপ -সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ অস্বীকার করে বলেন, সেবা নিতে আসা ভূমি মালিকদের কোন হয়রানী করা হয় না। তবে গত ডিসেম্বর মাসে সার্ভারের সমস্যার কারণে সেবা প্রত্যাশীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পরতে হয়েছে।
এই ব্যাপারে উপজেলা সাব রেজিস্টার অফিসার দোস্ত মোহাম্মদ বলেন, আমার অফিসে কোন অনিয়ম হয় না। তবে বাহিরে কি হয়, তা আমার জানা নেই।