খাগড়াছড়িতে দ্বিতীয় দিনের মতো অবরোধ, অচল জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০১:১০ পিএম
খাগড়াছড়িতে দ্বিতীয় দিনের মতো অবরোধ, অচল জনজীবন

পাহাড়ি কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে খাগড়াছড়ি। এই ঘটনার প্রতিবাদে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’-এর ডাকা সড়ক অবরোধ দ্বিতীয় দিনের মতো মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জেলায় চলমান রয়েছে। অবরোধের মধ্যেই খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারা উপজেলায় প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে।

অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতেও সীমিত সংখ্যক অটোরিকশা ও ইজিবাইক ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন দেখা যায়নি। খাগড়াছড়ি পৌর শহরের শাপলা চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনা, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ এবং সড়কে মানুষের উপস্থিতিও খুবই কম। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া ব্যক্তিদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হচ্ছে।

এর আগে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) গুইমারার রামেসু বাজার এলাকায় অবরোধকে ঘিরে সহিংসতায় রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন আথুই মারমা (২১), আথ্রাউ মারমা (২২) ও তৈইচিং মারমা (২০)। তাঁদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার রাতে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক মেজরসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ডা. ছাবের আহম্মেদ জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ১৩ জন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রাইভেট পড়া শেষে ফেরার পথে ওই কিশোরীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। রাত ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় একটি খেত থেকে উদ্ধার করে স্বজনরা হাসপাতালে নেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শয়ন শীল নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালত তাকে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে।

জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখার উদ্দিন খন্দকার জানিয়েছেন, অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত খাগড়াছড়ি সদর, পৌরসভা ও গুইমারা উপজেলায় ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে। পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে।