সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রোববার (২৬ অক্টোবর) এ আদেশ দেন। আদালত রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
জামিনের আবেদনগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই আন্দোলনে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলা, মিথ্যা হলফনামা দিয়ে প্লট নেওয়ার অভিযোগে দুদকের করা মামলা, এবং বেআইনি রায় দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের একটি মামলা। হাইকোর্টে এসব আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং দুদকের পক্ষে ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন।
তিন মাস ধরে কারাগারে থাকা খায়রুল হক নিম্ন আদালতে জামিনে ব্যর্থ হয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন। ২০ অক্টোবর শুনানির জন্য আবেদনগুলো উত্থাপন করা হয় এবং ২৬ অক্টোবর কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। দুপুরে শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করে।
২০২৪ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই বছরের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে বেআইনি রায় তৈরির অভিযোগে দায়ের করা মামলাতেও তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে শাহবাগ ও বন্দর থানায় পৃথক মামলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্নীতি দমন কমিশন প্লট গ্রহণের অভিযোগে চলতি বছরের আগস্টে আরেকটি মামলা দায়ের করে।
গত ১১ আগস্ট হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চে তাঁর জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতে আওয়ামীপন্থী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। বিচারপতি খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় হয়।