তানোরে ইউপি চেয়ারম্যানকে পিটিয়ে গুদামে আটকে রাখলেন এলএসডি !

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী | প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৫৩ এএম
তানোরে ইউপি চেয়ারম্যানকে পিটিয়ে গুদামে আটকে রাখলেন এলএসডি !
রাজশাহীর তানোরে ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক দু:স্থ অসহায় জনসাধারণের (ভিডাব্লিউভি) প্রকল্পের আওতায় খাদ্যগুদামের প্রতি বস্তায় চাল তিন থেকে পাঁচ কেজি করে কম দেয়ার অভিযোগ উঠে।

 বিষয়টি প্রতিবাদ করায় উপজেলার কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান সুফি কামাল মিন্টুকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে স্যান্ডেল দিয়ে পিটিয়ে ঘন্টা খানেক গুদামের মুল গেটে তালা মেরে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার কামারগাঁ খাদ্যগুদামে ঘটে এমন ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কামারগাঁ খাদ্যগুদামের ওসিএলএসডি (গুদাম কর্মকর্তা) আতিকুর রহমান ভিডাব্লিউভি প্রকল্পের আওতায় খাদ্যগুদামের প্রতি বস্তায় তিন থেকে পাঁচ কেজি করে চাল কম দেন। বিষয়টি নিয়ে উপকারভোগীরা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে অভিযোগ করেন। এসময় চেয়ারম্যান প্রতি বস্তায় চাল কমের কারণ জানতে চান। এতে গুদাম কর্মকর্তা আতিকুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করেন।

এছাড়াও তার ভাড়াটিয়া বাহিনী হিসেবে পরিচিত মশিউর রহমান ইউপি চেয়ারম্যানকে স্যান্ডেল দিয়ে বেধড়ক পেটান। মশিউরের বাড়ি কামারগাঁ গ্রামে। তিনি সিরাজ শেখের পুত্র। এখবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা খাদ্যগুদামের মুল গেটের সামনে অবস্থান নেয়। সংবাদ পেয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুনরায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে গুদাম কর্মকর্তাকে বদলি করার জন্য দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় জনসাধারণ। এবিষয়ে উপজেলার কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান সুফি কামাল মিন্টু বলেন, বুধবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদের ৯ ওয়ার্ডের দু:স্থ অসহায় (ভিডাব্লিউভি) প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগী ৪৫৪ জন ব্যক্তিকে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করার কথা ছিল। এজন্য সকাল ৯টার দিকে ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম রাজাসহ কয়েকজন মেম্বার ও দফাদার মিলে কামারগাঁ খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে পরিষদে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রতিবস্তা ওজন করে ৫০ কেজির বিপরীতে শতাধিক বস্তায় ৩/৫ কেজি করে চাল কম পাওয়া যায়। পরিষদ থেকে খাদ্যগুদামে গিয়ে ওসিএলএসডির কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া মাত্রই তিনি ক্ষিপ্ত উঠেন। এসময় তার সাথে থাকা কামারগাঁ গ্রামের মশিউর পায়ের স্যান্ডেল খুলে তাকে পিটিয়ে মুল গেটে তালা মেরে তাকে আটকে রাখে। চেয়ারম্যান মিন্টু আরও বলেন, এমন বিষয়টি নিয়ে মোবাইলে তিনি ইউএনও স্যারকে অবহিত করেন। এরপরে ইউএনওর নির্দেশে তানোর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে পরিষদে নিয়ে আসেন। পরিষদে এসে চালের বস্তা ওজন করে কমের সত্যতা পান। পুনরায় খাদ্যগুদাম থেকে ৬ বস্তা চাল জরিমানা হিসেবে দেন ওসিএলএসডি। এবিষয়ে কোন আইনি পদক্ষেপ নিবেন কিনা জানতে চাইলে চেয়ারম্যান জানান, তিনি ইউএনও স্যারকে বলেছেন দেখা যাক স্যার কি করেন। এনিয়ে উপজেলার কামারগাঁ খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা ওসিএলএসডি আতিকুর রহমান জানান, খাদ্যগুদাম থেকে চাল বের হয়ে যাওয়ার পর আমার কিছুই করনীয় থাকে না। এমন বিষয়টি চেয়ারম্যানকে বুঝানো হয়। তবে চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত নয়, তার সঙ্গে অকথ্য ভাষায় কথাবার্তা বলা হয়।

এসময় মশিউরের সাথে চেয়ারম্যানের ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে চেয়ারম্যানকে স্যান্ডেল দিয়ে গালে আঘাত করে মশিউর। আর খাদ্যগুদামে চেয়ারম্যানকে তিনি নন মশিউর ও তার লোকজন আটকে রাখে বলে এড়িয়ে গেছেন তিনি। তানোর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শেখ মলিউজ্জামান সজিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটকে রাখা চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আর যাতে করে খাদ্য গুদামের ভিতরে এমন ঘটনা আর না ঘটে। এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খানের সরকারি মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। তিনি সমাধান করেছেন। আর চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থ গ্রহণ করা হবে। ই/তা
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে