দিঘলিয়ায়

সরকারি গাছ চুরির ঘটনায় আসামীকে গ্রেফতার না করে মামলা উধাও

এফএনএস (সৈয়দ জাহিদুজ্জামান; দিঘলিয়া, খুলনা) : | প্রকাশ: ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ০৫:০৬ পিএম
সরকারি গাছ চুরির ঘটনায় আসামীকে গ্রেফতার না করে মামলা উধাও

ফ্যাসীবাদী সরকারের অবৈধ ক্ষমতার দাপট খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের সরকারি রাস্তার গাছ চুরি হয়। তদন্ত কমিটি গঠন এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর উপজেলা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক দিঘলিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয় উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে। ফ্যাসিষ্ট সরকারের অবৈধ ক্ষমতার দাপটে দিঘলিয়া থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ আসামী গ্রেফতার না করে মামলা উধাও করে ফেললেন। পর্দার আড়ালে থেকে তদবির চালিয়েছেন ফ্যাসিষ্টের দোসর সালাম মূর্শেদী। কারণ দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ রিপন কুমারের মাধ্যমে সালাম মূর্শেদী বিরোধী দলের প্রতি দমন পীড়ন ও মিথ্যা মামলা দায়ের করাতেন। এমনকি ভুয়া ও গায়েবি মামলার ফাঁদও তৈরি করা হতো।


সূত্র থেকে জানা যায়, ফ্যাসিষ্ট সরকার আমলে গাজীরহাট রোডের মরা গাছ টেন্ডারে বিক্রি করা হয়। সেন্ডিকেট করে খুলনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ও যুবলীগ নেতা মোঃ তারেক সকল প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সকল অকশন গ্রহণ করে। সে মরা গাছের পাশাপাশি ৩/৪ লাখ টাকার জ্যান্ত গাছও চুরি করে কেটে নিয়ে রাতের আঁধারে বিক্রি করে দেয়। 


দিঘলিয়া থানার তৎসময়ের  ওসি রিপন কুমার ও আসামী তারেকের বাড়ি এক জেলা সাতক্ষীরাতে হওয়ায় তাদের মধ্যে পূর্ব থেকে গভীর সম্পর্ক। তারেকগং এর নানা অপকর্ম ওসি রিপনের সহযোগীতায় মহাআকারে ছড়িয়ে পড়ে।


এর মধ্যে মামলাকে নরমাল করতে খুলনা-৪ আসনের সাবেক এমপি আসামী তারেকের সাথে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের মধ্যে মিটমাট করে দিছিলেন। গাছ চুরি মামলায় মূল ঠিকাদার গাছ চুরির হোতা তারেককে মামলার চার্জশিট হতে বাদ দেয় ওসি রিপন। সে মামলা ডিসমিস হয়। গাছ চুরি মামলা করে উপজেলা পরিষদ। তদন্তটিম হয়। তিনজন সরকারি কর্মকর্তা তদন্ত শেষে রিপোর্ট দেন সরকারি গাছ চুরি হয়েছে। আসামি তারেক জড়িত। সে মামলা ও তদন্ত রিপোর্টের নথি যাচাই করে দেখলে বুঝা যাবে বিচারকে কিভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে অবৈধ ক্ষমতার দাপটে। উপজেলা পরিষদ রেজুলেশন করে গাছ চুরি হয়েছে, আসামির নামে তদন্ত টিমের প্রমাণপত্রসহ মামলা হয়। অথচ সে মামলা ডিসমিস হয়ে যায় সৈরাচারী শেখ হাসিনার দোসর সালাম মূর্শেদীর অবৈধ নগ্ন থাবায়। এ ঘটনায় তিন কর্মকর্তার তদন্ত প্রশ্নবিদ্ধ করে দিলো। কর্মকর্তাদের অসম্মানিত করা হয়েছিল সেদিন মামলা নষ্ট করার মাধ্যমে। আর এর পিছনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মারুফুল ইসলামও কম দোষে দোষী নয়। কারণ মামলা তার। মামলায় বাদী হয়েছিলেন তারই দফতরের সরকারি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম। উপজেলা চেয়ারম্যানের গোপন ইশারা ছাড়া মামলা নষ্ট হয়নি। বিজ্ঞমহলের অভিমত সরকারি সম্পদ লুটপাট মামলাটি মাটিচাপা দেওয়ায় সিংহভাগ লাভ তারই হয়েছে। কারণ তারেককে পিছনে ফেলে নিজের জায়গা সামনের কাতারে নেওয়া। একাজে তিনি শতভাগ সফলও হয়েছিলেন। বাস্তবতা পরবর্তীতে ফ্যাসীবাদীর দোসর সালাম মূর্শেদী ও তার মধ্যে কোনো দূরত্ব ছিলনা। যেখানে সালাম মূর্শেদী সেখানেই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ মারুফুল ইসলাম। যে কারণে জাতীয় নির্বাচনে সালাম মূর্শেদীর পক্ষে তিনি ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলার নিবেদিত এক খটেল প্রাণ। আর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদেও সালাম মূর্শেদীর ভূমিকা ছিল প্রতিদানের স্বাক্ষর। বিজ্ঞমহলের জিজ্ঞাসা গাছ যে চুরি হলো, তাহলে চুরি করলো কে? তা মাটিচাপা হয়ে গেলো! সরকারি গাছ ফেরত পাওয়া দোষির শাস্তির জন্য প্রশাসন আবার পুনঃ তদন্ত দিয়ে আগের তদন্তের মূল্যায়ন করে সাবেক ওসি প্রভাবিত হয়ে দোষীকে নির্দোষ  বানিয়েছিলো এটা আবার শাস্তির আওতায় আনা যায় কিনা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে