স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সাবেক দুই কর্মকর্তার সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠালো দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৪:০১ পিএম
স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সাবেক দুই কর্মকর্তার সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠালো দুদক

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের সাবেক দুই ব্যক্তিগত কর্মকর্তা তুহিন ফারাবী ও মাহমুদুল হাসানের নামে থাকা সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চলতি নভেম্বরের শুরুতে পাঠানো এই নোটিশে তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পদের উৎস ও বিবরণ জমা দিতে বলা হয়েছে। রোববার (৯ নভেম্বর) দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দায়িত্ব পালনের সময় অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন, অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, “প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে যে, তাঁরা জ্ঞাত আয়ের বাইরে স্বনামে বা বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।” কমিশন তাঁদের নিজস্ব ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা ও আয়ের উৎসের বিস্তারিত বিবরণী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এর আগে গত ২১ মে দুদক এই দুই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। সেদিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি উপদেষ্টার পিও পদ থেকেও পদত্যাগ করছি।” তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে চিকিৎসক বদলি, টেন্ডার ও প্রশাসনিক তদবিরের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে।

দুদক জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী জমা না দিলে বা মিথ্যা তথ্য দিলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলতি বছরের মে মাসে এই দুই কর্মকর্তার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।

দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে তুহিন ফারাবী ও মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অপব্যবহার, তদবির বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাঁদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়, যার উৎস স্পষ্ট নয়।

দুদক সূত্র আরও জানায়, এই অনুসন্ধান স্বাস্থ্য খাতের সাম্প্রতিক দুর্নীতি ও অনিয়মের বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে চলছে। কমিশন বলছে, সম্পদের স্বচ্ছতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে