ট্রলার ডুবিতে মিঠুন নিহতের ঘটনা : ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এফএনএস (এম এ আজিম; খুলনা) : | প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০৩:৫২ পিএম
ট্রলার ডুবিতে মিঠুন নিহতের ঘটনা : ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

খুলনার রূপসা নদীতে ট্রলার ডুবিতে মুহিদুল হক মিঠুন নিহতের ঘটনায় ঘাট মাঝি ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদকসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৫ নভেম্বর) নিহত মহিদুল হক মিঠুনের বোন ফারিয়া সুলতানা রূপসা থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ নভেম্বর রাতে পূর্ব রূপসা ঘাটে ট্রলার মাঝির বেপরোয়া নৌকা চালানোর কারণে ট্রলারটি পল্টুনে জোরে ধাক্কা লাগে। এতে মিঠুনসহ তিনজন নদীতে পড়ে যায়। দু’জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও মিঠুন নিখোঁজ থাকেন। দীর্ঘ ৭০ ঘণ্টা তৎপরতা চালিয়ে ১২ নভেম্বর সকালে রূপসা ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। মামলায় অভিযুক্তদের অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশ তৈরির অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার আসামীরা হলেন, মাঝি ইউনিয়নের সভাপতি মো. হালিম চৌকিদার (৬০), সাধারণ সম্পাদক হারেজ হাওলাদার (৬৫), যুগ্ম সম্পাদক খোকন শেখ, মাঝি শফিকুল ওরফে শফিক বেপারি (২৭) ও আসাদুল মল্লিক (৩০)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নৌ-পুলিশের এস আই মো. জিন্নাত আলী বলেন, রূপসা ঘাটে ট্রলার থেকে যাত্রী নদীতে পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় রূপসা থানায় ১৫ নভেম্বর মাঝি ইউনিয়নের সভাপতি-সম্পাদক সহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জনের নামে মামলা দায়ের হয়েছে।

রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, রূপসা ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্টরা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এ দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে।

মিঠুন খুলনার একটি বেসরকারি ক্লিনিকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে