নওগাঁর মান্দা উপজেলার পিড়াকৈরু-শংকরপুর সড়কের মরাঘাটি এলাকা থেকে সরকারি মালিকানাধীন ৩০টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাতদিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাঁচাতেই গড়িমসি করছে স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে ভারশোঁ-তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আরমান হোসেন সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ‘এসি ল্যান্ড স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ৩০টি গাছ কেটে নেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। সরকারি গাছ কাটার বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁর দপ্তরে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় সড়কের দুই পাশে রোপণ করা ইউক্যালিপটাস গাছের পরিচর্যার দায়িত্ব ছিল পিড়াকৈর গ্রামের ছয় নারী উপকারভোগীর ওপর। কিন্তু কোনো প্রকার দরপত্র বা অনুমোদন ছাড়াই গত ৩ থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত গাছগুলো কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে ইউপি সদস্য আনছার আলী ভুট্টো ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি সানোয়ার হোসেনের সহায়তায় গাছগুলো বিক্রি করেন।
এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে সোমবার পিড়াকৈর গ্রামের রাস্তার মোড়ে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে যুবদল নেতা সানোয়ার হোসেন দাবি করেন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান কামরুলের নির্দেশেই ইউপি সদস্য ভুট্টো গাছগুলো বিক্রি করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে তিনি নিজে কোনোভাবেই জড়িত নন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘গাছ কাটার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে কোনো রেজুলেশন হয়নি। ইউপি সদস্য ভুট্টো কীভাবে গাছ বিক্রি করলেন তা জানা নেই। বিষয়টি তদন্ত করে তাঁকে শোকজ করা হবে। আমাকে জড়ানোর চেষ্টা চলছে।’
এ ঘটনার সাতদিন পার হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিল নওরোজ বৈশাখ বলেন, ‘রাস্তাটিতে ৬০ ভাগ সরকারি ও ৪০ ভাগ ব্যক্তিমালিকানার সম্পত্তি রয়েছে। জরিপ করে গাছগুলো সরকারি সম্পত্তির হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’