উত্তরাঞ্চলের জনপদ পঞ্চগড়ে শীতের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। টানা পাঁচ দিন তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে এবং সেই তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির আশপাশেই ঘোরাফেরা করছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পঞ্চগড় অঞ্চলে রাতের বেলা এখন প্রায়ই হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বিরাজ করছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে নেমে আসা হিমেল বাতাসে বাড়ছে শীতের অনুভূতি। দিনের বেলা সূর্য ওঠার পর তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও সন্ধ্যার পর আবারও নেমে আসে তীব্র শীত, ফলে গরম কাপড় ছাড়া বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, টানা পাঁচ দিন তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রায় খুব বেশি ওঠানামা নেই। শনিবার সকাল ৯টায় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি, রোববার ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি, সোমবার ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি, মঙ্গলবার ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং বুধবার একইভাবে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়। বাতাসের আদ্রতা অনেক দিনই ছিল ৭৭ থেকে ৯৭ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, “গত পাঁচ দিন তাপমাত্রায় খুব একটা পরিবর্তন নেই। সামনের দিনগুলোতে পারদ আরও নিচে নামতে পারে।” তিনি বলেন, ডিসেম্বরের শেষ দিকে শীত আরও জেঁকে বসবে এবং দিনের তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে কমতে পারে।
পঞ্চগড় সদরের ভ্যানচালক আবুল হোসেন জানান, ভোরে কাজে বের হলে ঠান্ডায় হাতপা অবশ হয়ে আসে। তার ভাষায়, “ভাই, এই শীতটা সইয়া থাকা লাগে। কুয়াশায় রাস্তা দেখা যায় না। বেলা বাড়লে একটু আরাম লাগে, কিন্তু সন্ধ্যার লগে লগে আবার জমাট শীত।”
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, তেঁতুলিয়া সাধারণত দেশের প্রথম শৈত্যপ্রবাহের আঘাত পায়। হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা সবচেয়ে দ্রুত নিচে নামে এবং টানা কয়েক দিন একই মাত্রায় থাকার ঘটনাও নতুন নয়।