ভারতের একাধিক তারকার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

এফএনএস বিনোদন
| আপডেট: ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৪:০২ পিএম | প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০২:০৮ পিএম
ভারতের একাধিক তারকার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

অবৈধ বেটিং অ্যাপের প্রচারণা ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বলিউডের একাধিক তারকার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আলোচিত এই তালিকায় রয়েছেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী, অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা, সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিং ও রবিন উথাপ্পা, পাশাপাশি বলিউড অভিনেত্রী উর্বশী রাউতেলা, সোনু সুদ ও নেহা শর্মা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ‘১এক্সবেট’ নামের একটি অবৈধ বেটিং অ্যাপ সংশ্লিষ্ট মামলায় মোট ৭ কোটি ৯৩ লাখ রুপির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি টাকা। এর মধ্যে মিমি চক্রবর্তীর ৫৯ লাখ রুপি এবং অঙ্কুশ হাজরার ৪৭ লাখ ২০ হাজার রুপির সম্পত্তি রয়েছে।

ক্রিকেটারদের মধ্যে যুবরাজ সিংয়ের ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি এবং রবিন উথাপ্পার ৮ লাখ ২৬ হাজার রুপির সম্পত্তি জব্দ করেছে ইডি। বলিউড অঙ্গনে উর্বশী রাউতেলার ২ কোটি ২ লাখ রুপি, সোনু সুদের ১ কোটি রুপি এবং নেহা শর্মার ১ কোটি ২৬ লাখ রুপির সম্পত্তিও এই তালিকায় রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উর্বশীর একটি সম্পত্তি তার মায়ের নামে ছিল।

এই বেটিং অ্যাপ কেলেঙ্কারির তদন্ত দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। এর আগে দিল্লিতে ইডির কেন্দ্রীয় দপ্তরে ডেকে মিমি চক্রবর্তী ও অঙ্কুশ হাজরাকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইডির অভিযোগ, অভিযুক্ত তারকারা অবৈধ বেটিং অ্যাপের বিজ্ঞাপনী প্রচারে অংশ নিয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন, যা অবৈধ উৎস থেকে আসা অর্থ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় এর আগেও বড় পদক্ষেপ নিয়েছিল ইডি। ৬ অক্টোবর একই মামলায় ভারতের দুই তারকা ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান ও সুরেশ রায়নার প্রায় সাড়ে ১১ কোটি রুপির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। যার মধ্যে রায়নার মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ এবং ধাওয়ানের স্থাবর সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবৈধ বেটিং অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে এসব অ্যাপের প্রচার জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর। তাই অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিনোদন ও ক্রীড়া অঙ্গনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

এই ঘটনার পর বলিউড ও ক্রিকেট জগতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তারকাদের সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ অবৈধ বেটিং ও কালো টাকার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।