কমেনি হ্রদের পানি না, বিপাকে হাজারো কৃষক

এফএনএস (সাকিব মামুন; লংগদু ও বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি) : | প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০১:০০ পিএম
কমেনি হ্রদের পানি না, বিপাকে হাজারো কৃষক

ষাটের দশকে নির্মত এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম হ্রদ পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদ। সৃষ্ট এ হ্রদে জলবায়ু ও ঋতু বদলের সাথে সাথে পরিবর্তন হয় কাপ্তাই হ্রদের জলধারার। বর্ষায় হ্রদ কানায় কানায় ভর্তি ও পানিতে টইটম্বুর। অন্যদিকে শীতের শেষে শুরু হয় হ্রদের পানি কমা। পানি কমার সাথে সাথে হ্রদ পারের প্রান্তিক কৃষকেরা রুটিরুজির তাগিদে লেগে যায় কৃষি কাজে। তবে এর ব্যাত্যয় দেখা দিয়েছে এ মৌসুমে। 

জেলার লংগদু-বরকল ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় কাপ্তাই হ্রদের পানি সময়মতো না কমায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন নিম্ন আয়ের হাজারো কৃষক। হ্রদের জমিগুলো এখনও পানিতে নিমজ্জিত থাকায় বোরো ধানের আবাদ শুরু করতে পারছেন না তারা। ফলে আগামী মৌসুমে এ এলাকায় তীব্র খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে লংগদু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণত পৌষ মাসের শুরুতেই যেসব জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করা হয়, সেসব জমি এখনও হ্রদের পানিতে তলিয়ে আছে। বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে এখন ধানের বদলে ঢেউ খেলছে পানি।

হ্রদের ভাসমান জমিতে চাষাবাদ করা কৃষক আবুল হোসেন ও জাফর মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ বছর ধরে এই জমিতে ধান ও মৌসুমি ফসল ফলাই। কিন্তু এবছর সরকার কাপ্তাই বাঁধে পানি আটকে রেখেছে। সময়মতো পানি না কমলে আমরা না খেয়ে মরবো।’

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, লংগদুতে মোট ৮ হাজার হেক্টর কৃষি জমির মধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জায়গা এখনো পানিতে ডুবে আছে। উপজেলার প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কৃষক এই জমির ওপর নির্ভরশীল। ইতোমধ্যে বগাচতর, গুলশাখালী ও মাইনীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা ধানের বীজ তলা তৈরি করলেও মূল জমিতে তা রোপণ করতে পারছেন না। কৃষকদের মতে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পানি না কমলে আবাদের মৌসুম পেরিয়ে হয়ে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

লংগদু উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যান তত্ত্ববিদ রতন চৌধুরী জানান, ‘যে হারে পানি কমছে, তাতে সঠিক সময়ে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে না। কৃষকদের বাঁচাতে এই মাসের মধ্যেই দ্রুত পানি কমানো প্রয়োজন।’ পাহাড়ের অর্থনীতিতে বড় ধরনের একটা অবদান রাখে লংগদুর কৃষকরা।

এ বিষয়ে পিডিপির ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, ‘গত কিছুদিন আগে একটি আলোচনা সভায় আগামী নির্বাচন পর্যন্ত হ্রদের পানি না কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।’ কৃষকদের সমস্যার কথা তুললে তিনি দাবি করেন, কাপ্তাই হ্রদে লংগদু অংশে যে পরিমাণ পানি থাকার কথা তার চেয়ে বরং ৫ ফুট কম আছে। তবে বাধ থেকে পানি ছাড়ার বিষয়ে কোনো আশানুরূপ উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

এদিকে লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, ‘কৃষকদের এই সংকটের কথা চিন্তা করে আমরা দ্রুত জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবো। কাপ্তাই বাঁধ দিয়ে দ্রুত পানি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

সচেতন নাগরিক বলছেন, কৃষি নির্ভর এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া দিনমজুর ও প্রান্তিক কৃষকদের জীবন জীবিকা নির্বাহের কথা চিন্তা করে এবং অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও সহায়তা প্রয়োজন। তবেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে।