তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে রাজনীতির শূন্যতা কাটবে, বললেন প্রেস সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৪:৫২ পিএম
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে রাজনীতির শূন্যতা কাটবে, বললেন প্রেস সচিব

দীর্ঘ দেড় যুগ পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় শূন্যতা পূরণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তাঁর মতে, সামনে যে বড় নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়া রয়েছে, তাতে তারেক রহমানের উপস্থিতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং পুরো প্রক্রিয়াকে আরও মসৃণ করবে।

বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পবিত্র জপমালা রাণী গির্জায় যান শফিকুল আলম। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে কিছু রাজনৈতিক শূন্যতা আছে। তারেক রহমানের আগমনে তা পূরণ হবে।”

শফিকুল আলম বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের নেতা। দীর্ঘ সময় পর তাঁর দেশে ফেরার প্রভাব হবে খুবই ইতিবাচক। তিনি বলেন, “আমাদের সামনে একটি বড় নির্বাচন। দেশ এখন একটি ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশনের মধ্যে আছে। তারেক রহমান দেশে আসার পর এই ট্রানজিশন আরও স্মুথ হবে বলে আমরা আশা করছি।”

তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নে প্রেস সচিব জানান, নিরাপত্তার দায়িত্ব বিএনপিই দেখছে। তবে দলটি সরকারের কাছে যে ধরনের সহযোগিতা চাচ্ছে, তা সবই দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। তাঁর ভাষায়, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি।

এদিন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগ প্রসঙ্গেও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে শফিকুল আলম বলেন, বিষয়টি বৃহস্পতিবার রাত বারোটার দিকের ঘটনা। তবে কী কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন, তা এখনো জানা যায়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তাঁকে বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে সিলেটে পৌঁছায়। সেখানে যাত্রাবিরতির পর বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানটি। তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।

বিমানবন্দরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পরে মাতৃভূমিতে ফিরে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। নিরাপত্তাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য তিনি বিমানবন্দর থেকেই প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে ফোন করে ধন্যবাদ জানান।

বড়দিনের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সব ধর্মের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার ও উৎসব নির্ভয়ে এবং আনন্দের সঙ্গে পালন করতে পারে, সেটিই সত্যিকারের গণতন্ত্রের অন্যতম লক্ষ্য।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে