হাতিয়ার পাঁচজন নিহতের ঘটনায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:৩০ পিএম
হাতিয়ার পাঁচজন নিহতের ঘটনায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় চর দখলকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সংঘর্ষে পাঁচজন নিহতের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। জাগলারচরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হওয়া এই সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহত এক শিক্ষার্থীর চাচা ও নিখোঁজ এক ব্যক্তির ভাই বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

হাতিয়া থানা সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে মামলাটি দায়ের করা হয়। বাদী আবুল বাশার নিহত মোবারক হোসেন শিহাবের চাচা। একই সঙ্গে তিনি নিখোঁজ শামছুদ্দিনের ভাই। আবুল বাশার জানান, নিহত ভাতিজার মরদেহ উদ্ধার, ময়নাতদন্ত ও দাফন সম্পন্ন করতে সময় লেগে যাওয়ায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

নিহত মোবারক হোসেন শিহাব সুবর্ণচর উপজেলার সৈকত সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবা মো. শামছুদ্দিন ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার বলছে, শামছুদ্দিনকে চরে জমি দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেওয়া হয়েছিল।

নিখোঁজ শামছুদ্দিনের স্ত্রী মাহফুজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “মনির মেম্বারসহ কয়েকজন আমার স্বামীকে জমি দেওয়ার কথা বলে জাগলারচরে নিয়ে যায়। পরদিন খবর পেয়ে আমার ছেলে শিহাব বাবাকে ফিরিয়ে আনতে সেখানে যায়। সেখানে গিয়েই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আমি ছেলের লাশ পেয়েছি, কিন্তু স্বামীর কোনো খোঁজ নেই।” তাঁর দাবি, শামছুদ্দিনকে হত্যা করে চরের কোনো নির্জন স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হতে পারে।

শামছুদ্দিনের বড় ছেলে মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “আমার বাবাকে জমি দেওয়ার কথা বলে জাগলারচরে নেওয়া হয়েছিল। ভাইয়ের মরদেহ পাওয়া গেছে, কিন্তু বাবার কোনো সন্ধান নেই। তিনি জীবিত না মৃত, সেটাই আমরা জানতে চাই।” তিনি ঘটনার মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডসংলগ্ন মেঘনা নদীর জাগলারচরে দুই পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা গোলাগুলিতে ঘটনাস্থলে চারজন নিহত হন। পরে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হন।

এই ঘটনায় নিহত পাঁচজন হলেন সুখচর ইউনিয়নের চর আমান উল্যাহ গ্রামের মো. মহিউদ্দিনের ছেলে আলাউদ্দিন, জাহাজমারা ইউনিয়নের পাইকবাধা এলাকার মো. শামছুদ্দিনের ছেলে মোবারক হোসেন শিহাব, হাতিয়া পৌরসভার পশ্চিম লক্ষ্মীদিয়া এলাকার মৃত শাহী আলমের ছেলে হক সাব, চানন্দী ইউনিয়নের মান্নান নগরের মৃত সেকুর ছেলে কামাল উদ্দিন এবং সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ চর মজিদ এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে আবুল কাশেম।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জাগলার চরের জমি এখনো সরকারিভাবে কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। এই সুযোগে গত ৫ আগস্টের পর একটি পক্ষ দাগপ্রতি নির্দিষ্ট মূল্যে জমি বিক্রি শুরু করে। পরে অন্য একটি পক্ষ বেশি দামে জমি বিক্রির চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের গ্রেপ্তার ও নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে