সৈয়দপুরে শীতবস্ত্র নিয়ে ছিন্নমুল মানুষের পাশে জেলা প্রশাসক

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০১:২০ পিএম
সৈয়দপুরে শীতবস্ত্র নিয়ে ছিন্নমুল মানুষের পাশে জেলা প্রশাসক

প্রকট শীতে গভীর রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে গরম কম্বল হাতে নিয়ে ছুটে চলেছেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক। দেশের সর্ব উত্তরের জেলা নীলফামারী। সাধারণত শীত এ জেলায় অন্যান্য জেলার চেয়ে বেশি হয়। তীব্র শীতে এ জেলার মানুষ কাহিল হয়ে পড়ে। শীত নিবারণে এ জেলার মানুষকে দেখা যায় আগুন জ্বালাতে। খরকুটো,বাশ ঝাড়ের পড়ে থাকা পাতা,বাঁশের মুড়া,শুকনো কাঠ,কাঠাল গাছের সংগৃহিত মুচি এ সকল উপকরণে আগুন দিয়ে হাঁড়ি বা বড় কোন মাটির পাত্রে রেখে শীত থেকে কিছুটা রক্ষা পেতে তাপ নিত। কেউবা আবার রাতে চকি বা খাটের নিচে আগুনের পাত্র রেখে দিত। এতে তাপের কারণে বিছানায় তেমন একটা শীত লাগতো না।

প্রতি বছর পৌষ মাসের মধ্য বা শেষে এ অঞ্চলে শীত জেঁকে বসতো। কোন কোন সময় আবার শৈত্য প্রবাহ দেখা দিত। এটি চলতো প্রায় সপ্তাহ ধরে। এ সময় মানুষজন এবং পশুপাখি বড় অসহায় হয়ে পড়ে। শীত নিবারণে এ সময় সবাই গরম কাপড়ের জন্য ছুটাছুটি করতো। দানবীর মহৎ মানুষ অসহায়দের পাশে এগিয়ে আসতো।  কেউ শীতের কাপড় বিতরণ করতো আবার কেউ চাল ডাল ও টাকা তুলে দিত।এবার পৌষের শুরুতেই শীত যেন জেঁকে বসেছে।

তীব্র শীতের সাথে শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। শীতবস্ত্র বিতরণে অসহায়দের পাশে কেউ এগিয়ে আসেনি। 

তবে এমন শীতে বসে থাকেননি নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। তিনি প্রতিদিন জেলার কোথাও না কোথাও বিতরণ করে চলেছেন শীতবস্ত্র। রেল স্টেশন, বাসটার্মিনাল, পথের পাশে বাড়ি ঘর হীন অসহায় ছিন্নমুল মানুষকে তিনি খুঁজছেন। তাই রাতের ঘুমকে বিসর্জন দিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। গভীর রাতে গরম কম্বল নিয়ে ছুটছেন সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে। স্টেশনে জড়োসরো হয়ে কোকড়া লেগে শুয়ে থাকা ছিন্নমুল মানুষকে জেগে তুলে তাদের ঠান্ডা গায়ে গরম কম্নল জড়িয়ে দিচ্ছেন। এ সময় তিনি বলেন যাদের কেউ নেই, নেই কোন ঘরবাড়ি তাদের থাকার ব্যবস্থারও আশ্বাস দেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে