তানোরে মৎস্যচাষের মটরে অবৈধ সেচ বাণিজ্য, উদাসিন কর্তৃপক্ষ

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী
| আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:২০ পিএম | প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:১৯ পিএম
তানোরে মৎস্যচাষের মটরে অবৈধ সেচ বাণিজ্য, উদাসিন কর্তৃপক্ষ
রাজশাহীর তানোরে মৎস্যচাষের নামে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে সেই মটর থেকে অবৈধ সেচ বাণিজ্যে কৃষকদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েক বছর এমন অবৈধ মটরে সেচ বাণিজ্য করা হলেও উদাসিন রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অবিলম্বে এসব অবৈধ সেচ বাণিজ্য বন্ধে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় শঙ্কিত কৃষকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির কুন্দাইন গ্রামের ইউসুফ আলী শিবপুর মৌজায় বিএমডিএর গভীর নলকূপ কমান্ড এরিয়ায় একটি পুকুর পাড়ে মৎস্যচাষের নামে মিনি ডিপ (মটর) স্থাপন করেছেন। এছাড়াও আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন নির্মাণ করে বিএমডিএর গভীর নলকূপ কমান্ড এরিয়ায় সেচ বাণিজ্যে করছেন দেদারসে। ব্যক্তিগত মটর হওয়ায় তিনি নিজের ইচ্ছেমতো সেচ চার্জ আদায় করছেন। এতে কৃষকের বিপুল পরিমান অর্থ খোয়া যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক জানান, ড্রেন মেরামত ভোল্টেজ বাড়ানো নানা অজুহাতে কৃষকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। এতে কৃষকদের মাঝে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। তবে, কেউ কোনো প্রতিবাদ করতে সাহস পারছেন না। যদি কেউ প্রতিবাদ করেন তার জমিতে সেচ দেয়া বন্ধ করে দিচ্ছেন। এনিয়ে অভিযোগ করা হলে কোন প্রতিকার হয় না। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রভাবিত হয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকায় বাড়ছে অবৈধ সেচ বাণিজ্য। অন্যদিকে উপজেলার বাধাইড় ইউপির শসানতলা গ্রামের শাহজাহান আলী তার বাড়ি থেকে আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সেচ বাণিজ্য করছেন দেদারসে। কৃষকেরা জানান, শাহজাহান আলী সেচ চার্জ আদায়ে তাদের জিম্মি করে বাণিজ্য করছেন। এতে তারা অসহায়। তানোর পল্লীবিদ্যুৎ যথারীতি এসব অবৈধ মটরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে জরিমানার নামে বাণিজ্য করছেন। অথচ সেচ নীতিমলা অনুয়ায়ী খাবার পানির মটর থেকে কৃষি জমিতে সেচ দেয়া হলে সেই মটরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা। এসব হাজারো অবৈধ মটরের কারণে বিএমডিএ’র অধিকাংশ গভীর নলকুপ লেয়ার ফেল করে অকেজো হয়ে পড়ছে। এমন কারবার বিএমডিএ সেচ সুবিধা হুমকির মুখে। এব্যাপারে বিএমডিএ তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী জামিনুর রহমান বলেন, গভীর নলকুপের কমান্ড এরিয়ায় সেচ মটর স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। আর বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া তো প্রশ্নই আসে না, এমনকি খাবার পানির মটর থেকে কৃষি জমিতে সেচ দেয়া যাবে না। তবে, বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। রাজশাহী পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির তানোর এরিয়া ম্যানেজার (ডিজিএম) রেজাউল করিম খাঁন বলেন, মৎস্য ও শিল্প বা খাবার পানির মটর থেকে কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা দেয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে। তবে, এব্যাপারে উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ইউএনও নাঈমা খানের সরকারি মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও রিসিভ হয়নি। ই/তা
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে