জামায়াতে ইসলামীসহ যেকোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠনের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে চিঠি দিয়েছেন দলের অন্তত ১৭০ জন কেন্দ্রীয় নেতা। দলের ভেতরে জোট প্রশ্নে মতভেদের প্রকাশ্য আলোচনার মধ্যেই এই চিঠিকে এনসিপির ভেতরের শক্ত অবস্থানের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট বা আসন সমঝোতার বিরোধিতা করে ৩০ জন নেতার একটি চিঠির বিষয় প্রকাশ্যে আসার পরই জোটের পক্ষে থাকা নেতারা সংগঠিতভাবে সমর্থন জানাতে শুরু করেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর এই চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের সংখ্যা ১৭০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. আরিফুর রহমান তুহিন জানান, জোটের পক্ষে থাকা কেন্দ্রীয় নেতারা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চিঠিটি ফরোয়ার্ড করেন। তাঁর ভাষায়, “এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭০ জন নেতা সমর্থন জানিয়েছেন। এর মধ্যে ১২২ জন আলাদা করে চিঠি পাঠিয়েছেন। অন্যরাও পর্যায়ক্রমে চিঠি দেবেন বলে আমরা আশা করছি।”
চিঠিতে বলা হয়, দলীয় স্বার্থ, জাতীয় স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বৃহত্তর লক্ষ্য সামনে রেখে এনসিপি যদি কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা কিংবা জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়, সে ক্ষেত্রে স্বাক্ষরকারীদের পূর্ণ সমর্থন ও সম্মতি রয়েছে। পাশাপাশি নির্বাহী কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব যে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তাতেও আস্থা রাখার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, “আমরা বিশ্বাস করি, আপনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে এনসিপি একটি সময়োপযোগী, গ্রহণযোগ্য ও ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তে উপনীত হবে। এই সিদ্ধান্ত দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করবে এবং জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করবে।”
এনসিপির নেতাদের একটি অংশ মনে করছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কৌশলগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন সময়ের দাবি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার টেকসই করা এবং জনমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা মত দিয়েছেন।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, ড. আতিক মুজাহিদ, জাভেদ রাসীন, সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, এহতেশাম হক, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, মাহমুদা মিতু, আলী নাসের খান, মাহিন সরকার, আশিকিন আলম, ডা. আব্দুল আহাদ, দিলশানা পারুল, মাহবুব আলম, হাফসা জাহান, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, জুবায়রুল হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনায়েদ, কৈলাশ চন্দ্র রবিদাসসহ আরও অনেক কেন্দ্রীয় নেতা।
এর আগে একই দিনে জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে ৩০ জন নেতা নাহিদ ইসলাম বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন। সেখানে নীতিগত অবস্থানের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়। সেই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর এনসিপির ভেতরে আলোচনা আরও তীব্র হয় এবং পাল্টা অবস্থান স্পষ্ট করে জোটপন্থী নেতাদের এই চিঠি সামনে আসে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির ভেতরে এই প্রকাশ্য অবস্থান দলটির ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জোট প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটির দিকেই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর।